কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে কয়েক হাজার ব্যবসায়ী-কর্মচারী

কালিয়াকৈরে চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

এম তুষারী, কালিয়াকৈর (গাজীপুর)

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়সহ চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করাসহ বিভিন্ন মালপত্র নিলামে দেওয়ায় কয়েক হাজার ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কম দামে নিলামে নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কৌশলে বেশি টাকা আদায় করছে একটি চক্র। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী-কর্মচারীরা।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী-কর্মচারীরা জানান, ৩০-৩৫ বছর আগে থেকে ধীরে ধীরে কালিয়াকৈর উপজেলার কালিয়াকৈর বাজার এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমিতে এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। কোনো কোনো অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে আরও আগে। প্রতিটি অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলতে সওজ বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও দালাল চক্র মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলেও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। এর আগে উপজেলা প্রশাসন এবং সওজ বিভাগ একাধিকবার অভিযান চালিয়ে অল্প কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু সওজ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালাল চক্রকে টাকা দিয়ে আবার এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বিভিন্ন দোকানপাট দিয়ে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। কিন্তু শনিবার দিনব্যাপী উপজেলা প্রশাসন ও সওজ বিভাগ যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযান চালিয়ে উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়সহ প্রায় চার শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে এসব অবৈধ স্থাপনার বিভিন্ন মালপত্র নিলামে দেওয়া হয়। নিলাম বাবদ চার লাখ ৯০ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে। উচ্ছেদের পর কয়েক হাজার ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মচারীর কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, তাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি, মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া কম দামে নিলামে নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কৌশলে বেশি টাকা আদায় করে নিচ্ছে একটি চক্র। এতে প্রায় কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এসব ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী-কর্মচারী ও স্থানীয় লোকজন।

এদিকে রোববার সকালে কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী-কর্মচারীদের খোঁজ-খবর নেন এবং তার পক্ষ থেকে নিলামের সব টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে আমাদের দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার সময় না দিয়ে দলীয় কার্যালয়টি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ অফিস ভেঙে একটি রাজনৈতিক দলকে স্থবির করা যাবে না। অফিসটি পুনর্গঠন করা হবে।

কালিয়াকৈর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইশতিয়াক আহম্মেদ জানান, সড়ক ও জনপথের জমিতে থাকা অবৈধ স্থাপনা ছয় মাসের মধ্যে সরিয়ে ফেলার জন্য উচ্চ আদালতের নির্দেশ রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় ওই এলাকা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের যুগ্ম সচিব মাহবুব রহমান ফারুকী বলেন, সড়কের জমিতে গড়ে তোলা সব অবৈধ স্থাপনা পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হবে। অবৈধ দখলদাররা আমাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নানা কথা বলবেই। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সারাদেশে সড়ক বিভাগের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছেন।