স্কুলমাঠের মাটি কেটে নিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক

ফুলবাড়ীর কুরুষাফেরুষা খন্দকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯      

শাহিনুর রহমান শাহিন, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম)

লেখাপড়ার ফাঁকে মাঠে খেলাধুলা করত শিক্ষার্থীরা। ছায়া পেত গাছের। সেই গাছের ডাল ও মাঠের মাটি নিয়ে যাচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুরুষাফেরুষা খন্দকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মাঠের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে প্রধান শিক্ষকের জমিতে। মাঠের একটি বড় বটগাছের ডালপালাও কেটে নেওয়া হয়েছে। গাছটি এখন মরে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা খন্দকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ২৫ বছর ধরে শিক্ষার্থীরা খেলা করে আসছে। মাঠের সৌন্দর্যের জন্য রোপণ করা হতো বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। কিন্তু গত শুক্র ও শনিবার দু'দিন স্কুল বন্ধ থাকায় মাঠের দক্ষিণ পাশের মাটি কেটে শ্যালোচালিত ট্রলি দিয়ে নিয়ে নিজের জমি ভরাট করছেন প্রধান শিক্ষক। মাটি কেটে নেওয়ায় মাঠটি এখন আরও ছোট হয়ে গেছে। ফলে সব ধরনের খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। প্রায় চার-পাঁচ শতক মাঠের মাটি কেটে নেওয়ায় বিশাল গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো সময় শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় রফিক মিয়া, আব্দুর রহীম ও নুরবানু বেগম জানান, কী করে প্রধান শিক্ষক স্কুলমাঠের মাটি কেটে নিয়ে যান। একটি বড় বটগাছ কাটারও চেষ্টা করেছেন। আমরা বাধা দেওয়ায় তা পারেননি। পরে গোপনে বটগাছের ডালপালা কেটে বাড়িতে নিয়ে গেছেন প্রধান শিক্ষক।

শিক্ষার্থী বেলাল ইসলাম, জামরুল ইসলাম ও বিপাশা খাতুন বর্ণা জানায়, তাদের বিদ্যালয়ের মাঠ ছোট। তার ওপর মাঠের মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এখন  খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। বিদ্যালয়ে কোনো গাছ-গাছালি নেই। শুধু একটি বটগাছ। আমরা টিফিনের সময় বন্ধুদের নিয়ে বটগাছের নিচে বসতাম। সেই গাছের কোনো ডাল নেই এখন।

কুরুষাফেরুষা খন্দকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন ইসলাম জানান, প্রধান শিক্ষককে এভাবে বিদ্যালয়ের মাঠের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় বাধা দিয়েছেন। তার পরও জোর করে মাঠের মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন।

প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান গাছের ডাল কাটা ও মাটি কাটার সত্যতা স্বীকার করে জানান, স্কুলমাঠের জমিটি আমার বাপ-দাদার। তাই স্কুলমাঠের মাটি ও গাছের ডাল কেটে নিচ্ছি। সেখানে অতিরিক্ত জমি আমাদের রয়েছে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হৃদয় রঞ্জন জানান, অভিযোগ পেয়ে প্রধান শিক্ষককে নিষেধ করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি আমিন দিয়ে জমির সীমানা নির্ধারণ করা হবে। তার পরও প্রধান শিক্ষক না মানলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফুলবাড়ী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, তদন্ত সাপেক্ষে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।