মহামারি করোনা সংক্রমণে গোটা বিশ্ব আক্রান্ত। এ মহামারি থেকে রক্ষা পায়নি বাংলাদেশও। এরই মধ্যে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছে মানুষ। এই বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় সরকার স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু নীলফামারীর জলঢাকার গোলনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবীর এই দুর্দিনে জনগণের পাশে না থেকে ছুটির কথা বলে রয়েছেন ঢাকায়। এতে করে সরকারের নানামুখী কর্মসূচি ভেস্তে যেতে বসেছে ওই ইউনিয়নটিতে।

ওই ইউনিয়নের সাধারণ জনগণের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ায় চেয়ারম্যান ঢাকায় নিজ বাসায় চলে যান। তারা জানান, এমন বিপদের দিনে চেয়ারম্যান পাশে নেই, এটা দুঃখজনক। ওই ইউনিয়নের ৮নং ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলাম জানান, 'করোনার সংক্রমণের শুরুর দিকে চেয়ারম্যান সাহেব ঢাকায় গেছেন, এখনও ফেরেননি।' অন্যদিকে ওই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাতেমা বেগমের মোবাইলে কল করলে রিসিভ করেন তার স্বামী মনছুর আলী। তিনি জানান, একজন চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের অভিভাবক। তিনি না থাকায় কাজ করতে বিভিন্ন সমস্যা হচ্ছে।' এলাকায় অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল আলম কবীরের মোবাইলে ফোন করা হলে তিনি বলেন, 'আমি অসুস্থ, ঢাকায় চিকিৎসার জন্য এসে লকডাউনে আটকা পড়েছি। তবে ঢাকায় থেকে আমার ইউনিয়নের খোঁজখবর নিচ্ছি।' ছুটির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবগত করেছি এবং দ্রুত এলাকায় ফেরার চেষ্টা করছি। তবে একজন ইউপি চেয়ারম্যান অসুস্থ বা এলাকার বাইরে থাকলে জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ছুটি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ছুটির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের মোবাইল ফোনে কল দিলে রিসিভ করেন একজন এনডিসি। তিনি জানান, স্যার টিসিবির মিটিংয়ে ব্যস্ত আছেন, পরে ফোন করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'গোলনা ইউপি চেয়ারম্যানের ছুটির বিষয়ে আমি কিছু জানি না।'

মন্তব্য করুন