নওগাঁর বদলগাছীতে করোনা পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইটভাটা চালু রেখেছেন মালিকরা। ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে কাঠ। অনেক ইটভাটাই গড়ে উঠেছে তিন ফসলি জমিতে। ফলে একদিকে যেমন অনেক শ্রমিক একত্রে কাজ করায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি

হচ্ছে, পাশাপাশি দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। কমে যাচ্ছে ফসলি জমি।

উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ইটভাটা রয়েছে মোট ২৭টি। এর মধ্যে লাইসেন্স রয়েছে মাত্র তিনটির। বন্ধ রয়েছে পাঁচটি। বাকি ১৯টি চলছে অবৈধভাবে। এগুলোর না আছে কোনো লাইসেন্স, না আছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র।

উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটায় কাজ করছেন ৭০-৮০ জন শ্রমিক। করোনা ভাইরাস নিয়ে এদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কিছুই নেই। তাদের চিন্তা একটাই- কাজ না করলে খাবো কী? অধিকাংশ ইটভাটাতেই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে কাঠ। প্রশাসনকে দেখানোর জন্য কয়লাও রাখা হয়েছে। কিন্তু পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে একদিকে যেমন কাটা হচ্ছে গাছ, অন্যদিকে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। আইন না মেনে এই ইটভাটাগুলোর কোনোটি গড়ে উঠেছে তিন ফসলি জমিতে, কোনোটি আবাসিক এলাকায়। ফলে ফসলি জমি কমে গিয়ে ভবিষ্যতে খাদ্য ঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

ইট পোড়ানো (নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন আইন-২০১০ এর ৪৫৬ উপধারা মতে, আবাসিক এলাকা, উপজেলা সদর, ফলের বাগান, ফসলি জমি, বনাঞ্চল, লোকালয় ও জনবসতি এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু কেউই মানছে না এই আইন। দিনের পর দিন আইন অগ্রাহ্য করে এভাবেই চলে আসছে ইটভাটা ব্যবসা। তবু নির্বিকার প্রশাসন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এসব ইটভাটা মালিক অনেক প্রভাবশালী। তারা টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেন। আবার আশপাশের জমির মালিকদের টাকার লোভ দেখিয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে নিয়ে যান ইটভাটায়। ফলে দিন দিন ফসলি জমি কমে যাচ্ছে। মাটির উপরের অংশের উর্বরতা হরিয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এসব মাটিতে আশানুরূপ ফসল ফলবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপজেলার পাহাড়পুর ইউপির মেসার্স আদিল ব্রিকসের ম্যানেজার রাব্বি বলেন, করোনার কারণে ইটভাটা বন্ধ করলে শ্রমিকরা খাবে কী? তাই আমরা ভাটা চালাচ্ছি। তবে দুই-একদিনের মধ্যে বন্ধ করে দেব।

এমবিএফ ইটভাটার ম্যানেজার চঞ্চলের কাছে কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ইটভাটার মালিক এনামুলের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। দুটি ইটভাটার মালিক এনামুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি কল ধরেননি।

উপজেলার খোজাগারি গ্রামের সততা ব্রিকসের অংশীদার বকুল বলেন, দুই তিন দিনের মধ্যে ভাটা বন্ধ করা হবে। কাঠ কেন পোড়াচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে চলে যান।

ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ বলেন, সমিতির পক্ষ থেকে আমরা সব মালিককেই ইটভাটা বন্ধ করতে বলেছি এবং সবাই বন্ধ করেছেন। কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, দুই-তিনটি ইটভাটা আছে যারা গোপনে কাঠ পোড়ায়। কিন্তু অধিকাংশ ইটভাটা জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করে।

পরিবেশ অধিদপ্তর নওগাঁর সহকারী পরিচালক মকবুল হোসেন জানান, বদলগাছীতে বর্তমানে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র কারোরই নেই। দুই-তিনটি ইটভাটা ছিল যেগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারি না। যদি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার অনুমতি আসে, তবে আমরা ব্যবস্থা নেব।

বদলগাছীর ইউএনও মুহা. আবু তাহির বলেন, ইটভাটা মালিক সমিতিকে নিষেধ করেছি শ্রমিকদের এখন কাজ না করাতে। কাঠ পোড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, অন্যায় কাজ করলে কেউই ছাড় পাবে না। আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য করুন