দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপে বিরূপ প্রভাব পড়েছে পাট শিল্পের ওপর। লকডাউনের কারণে বন্ধ হয়ে গেছে পাট রপ্তানি। প্রায় সাতশ' কোটি টাকা মূল্যের ২০ লাখ মণ কাঁচাপাট পড়ে আছে জেলার বিভিন্ন গুদামে। কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত ১০ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার।

সোনালি আঁশের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে প্রাচ্যের ডান্ডি খ্যাত শিল্পনগরী নারায়ণগঞ্জের পাট শিল্পের এখন দুর্দিন। পাট শিল্পকে লকডাউনের কোপানল থেকে রক্ষা করতে না পারলে এই শিল্পে ধস নামবে বলে আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকরা।

জেলা পাট রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার গুদামগুলোতে পড়ে থাকা প্রায় ৪ লাখ বেল অর্থাৎ ২০ লাখ মণ কাঁচাপাট রপ্তানি করার কোনো উদ্যোগ না নিলে তা নষ্ট হয়ে যাবে। এই নষ্ট পাট গুদামেই মজুদ থাকবে। গুদাম খালি না হলে আগামী জুলাই মাসে নতুন পাটের মৌসুম শুরু হলেও পাট সংগ্রহ ও গুদামজাত করা যাবে না।

এ ছাড়া রপ্তানিকারকরা নতুন পাট কিনতেও আগ্রহী হবেন না। এমন ভয়ংকর পরিস্থিতিতে দেউলিয়া হয়ে যাবেন অনেক পাট ব্যবসায়ী। তবে এ পরিস্থিতিতেও কিছুটা আশার আলো দেখছেন পাট ব্যবসায়ীরা। কোরিয়া ও চীনে সীমিত আকারে কিছু পাট রপ্তানি করার সুযোগ রয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের রপ্তানিকারকদের দাবি, কোরিয়া ও চীনে যেহেতু সীমিত আকারে পাট রপ্তানির সুযোগ রয়েছে- এই সুযোগ কাজে লাগাতে এই মুহূর্তে দরকার সরকারি প্রণোদনা। অন্তত পাট শিল্পের ক্ষেত্রে লকডাউন শিথিল করলে সুফল পাওয়া যাবে। নইলে সব শেষ হয়ে যাবে।

এদিকে গত ৭ এপ্রিল লকডাউনের পর থেকে পাট রপ্তানি ও সব গুদামে পাট প্রস্তুতকরণের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবার। বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, অনেকটা অনাহারেই দিন কাটছে তাদের।

পাট রপ্তানিকারকদের জাতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়ির ভাইস প্রেসিডেন্ট আরজু রহমান ভূঁইয়া বলেন, লকডাউনের কারণে বিদেশি ক্রেতারা পাট ক্রয় আদেশ বাতিল করায় দেশের রপ্তানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন। তবে কোরিয়া এবং চীন আবার ক্রয় করা শুরু করেছে। সীমিত আকারেই দুই দেশে পাট রপ্তানি করা গেলে ভরাডুবি থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি।

মন্তব্য করুন