কাজ না করেই বরাদ্দ তুললেন প্রকল্প সভাপতিরা

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২০

বেলাল হোসেন জুয়েল, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)

কমলনগর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) প্রকল্পের বরাদ্দ হরিলুট হয়েছে। কাজ না করেই প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ তুলে আত্মসাৎ করেছেন প্রকল্প সভাপতিরা। এতে ক্ষুব্ধ সুবিধাবঞ্চিতরা অনিয়ম তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে টিআর-এর ৩৭টি প্রকল্পের জন্য ৩৮ লাখ ৪৯ হাজার ৩৬৮ টাকা এবং কাবিখার ১৯টি প্রকল্পের জন্য ১৩৯ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজ না করেই সবগুলো প্রকল্পের সভাপতি গত ৩০ জুনের মধ্যে বরাদ্দকৃত অর্থ ও খাদ্যশস্য তুলে নিয়েছেন।

তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডেও আধা কিলোমিটার দীর্ঘ তোতা মিয়া সড়ক মেরামতের জন্য কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ১১.৮১ টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কাজ শেষ না করেই প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য আব্দুল মতিন পুরো বরাদ্দ তুলে নেন। কিন্তু স্থানীয়রা জানায়, ২২ জন শ্রমিক সড়কটিতে কিছু মাটি ফেলা হয়েছে। পরে আরও কিছু কাজ করা হবে বললেও এখন পর্যন্ত তা করা হয়নি। তবে প্রকল্প সভাপতি আবদুল মতিন দাবি করেন, বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ শেষ করা হয়েছে।

একই ইউনিয়নের চরপাগলা এলাকার উদয়ন হাইস্কুল থেকে সেরাজল হক সড়ক পর্যন্ত দেড় মাস আগে স্থানীয় ইয়াছিন আরাফাত, সোলাইমান, সফিক উল্যাহ ও আলী আজমসহ কয়েকজন নিজ অর্থে মাটি ফেলে চলাচলের উপযোগী করেন। মেরামত করা ওই সড়কের জন্য কাবিখা থেকে বরাদ্দ দেওয়া ৯ টন গম তুলে আত্মসাৎ করেছেন প্রকল্প সভাপতি ছয় নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম হওয়ায় সড়কটিতে কাজ করানো সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে কাজ করানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের ভূঁইয়াপাড়া জামে মসজিদের মক্তব নির্মাণের জন্য টিআর প্রকল্প থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে প্রকল্প সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুনুর রশিদ জিন্নাহ ভূঁইয়া ৩০ জুন অর্থ তোলেন। কিন্তু বাস্তবে মক্তবের কোনো অস্তিত্ব চোখে পড়েনি। মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছালেহ উদ্দিন মিঠু জানান, মসজিদের জন্য কিছু অনুদান দেওয়ার কথা বলে ইউপি সদস্য তাদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিলেও এখন পর্যন্ত অনুদান দেওয়া বা মক্তব ঘর নির্মাণ করা হয়নি।

উপজেলার চরমার্টিন ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার শামছল হক সড়ক মেরামতের জন্য টিআর প্রকল্প থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা। কাজ না করে প্রকল্প সভাপতি ইউপি সদস্য মো. ঈমান আলী অর্থ তুলে নিয়েছেন। কাজ শেষ করার আগে টাকা উত্তোলনের কথা স্বীকার করে মো. ঈমান আলী বলেন, বর্ষা শেষে সড়কটিতে কাজ করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. রিয়াদ হোসেন বলেন, তদারকি করেই টিআর-কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দ ছাড় করা হয়েছে। এর পরও কোনো প্রকল্পে অনিয়ম হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবারক হোসেন জানান, প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে অনিয়মের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।