মাস্ক পরতে বলায় ফার্মাসিস্টকে যুবলীগ নেতার মারধর

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২০

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

সাটুরিয়ার দিঘলিয়া ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট সুজন মিয়াকে মারধর করে সরকারি ওষুধ লুট করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার। সুজন মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমানের ছেলে।

দিঘলিয়ার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট সুজন মিয়া জানান, গত মঙ্গলবার দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম একদল সন্ত্রাসী নিয়ে মাস্ক ছাড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঢোকেন। তিনি তাদের মাস্ক পরার কথা বলেন ও সরকারি নির্দেশ মানার জন্য অনুরোধ করেন। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে সুজনের মাস্ক খুলে নেন তারা। পরে রেজাউল করিমের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি, লোহার রড দিয়ে আঘাত ও লাথি মারেন এবং হাসপাতালের সব ওষুধ লুট করে নেন। এ অবস্থায় তাকে তার সহকর্মী ও স্থানীয়রা উদ্ধার করে সাটুরিয়া হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও যুবলীগের সভাপতি তাকে নানা ভয়ভীতি ও বান্দরবান বদলির হুমকি দিচ্ছেন মোবাইলে। সুজন সাটুরিয়া থানায় যুবলীগের সভাপতিসহ ৪ জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ করেছেন।

সাটুরিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, 'ওই ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওষুধও লুট করা হয়নি। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে একটি পক্ষ অপপ্রচার করছে।' জেলার পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক গোলাম নবী বলেন, 'বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

সাটুরিয়া থানার ওসি মতিয়ার রহমান মিঞা বলেন, বিষয়টি সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় সংশ্নিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে।