সুস্থ সচ্ছলরা পাচ্ছে প্রতিবন্ধী ভাতা

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২০

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রতিবন্ধী নন এমন সচ্ছল কৃষক, অটোরিকশাচালক ইত্যাদি পেশার মানুষ প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে পাচ্ছেন সরকারি ভাতা। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় ছয়জন সুস্থ মানুষের সন্ধান পাওয়া গেছে যারা প্রতিবন্ধী না হয়েও প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন করছেন। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের জরিপে ওই সুস্থ ব্যক্তিদের প্রতিবন্ধী তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য রোকেয়া খাতুন তার তিন সুস্থ ভাই আবদুছ ছাত্তার (৫৫), স্বপন মিয়া (৩৮) ও রতন মিয়াকে (৩২) প্রতিবন্ধী সাজিয়ে সরকারি ভাতা উত্তোলন করেছেন। অনিয়মের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর রোকেয়া খাতুন এ ঘটনায় তার সংশ্নিষ্টতার কথা অস্বীকার করেছেন।

গতকাল বুধবার সিংরইল ইউনিয়নের মহাবৈ গ্রামে গিয়ে জানা যায়, সেখানে সুস্থ দু'জন নারী ও একজন পুরুষ ৯ হাজার টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা উত্তোলন করছেন। তাদের একজন হলেন ইমান আলীর স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৫৫)। ইমান আলী বলেন, আমার স্ত্রী প্রতিবন্ধী নন। তার দুই ছেলেও একই কথা বলেন। একই গ্রামের আবদুর রশিদ ঢাকায় অটোরিকশা চালান। তার ছেলে রনি দাবি করেন, তার বাবা প্রতিবন্ধী। এ সময় কয়েকজন গ্রামবাসী বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নাজমা আক্তারকে (১৯) সামনে এনে এ প্রতিবেদককে বলেন, আবদুর রশিদ কর্মক্ষম ও সচ্ছল হয়েও প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। কিন্তু প্রতিবন্ধী নাজমা পাচ্ছে না কেন?

কথিত প্রতিবন্ধী অজুফা খাতুনকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তার স্বামী ইছাম উদ্দিন জানান, তার স্ত্রী প্রতিবন্ধী নন তবে তারা গরিব মানুষ। অজুফা খাতুনের মা আনোয়ারা বলেন, নাজিম উদ্দিনকে বলেছিলাম একটি কার্ড করে দিতে। কিন্তু নাজিম যে আমার মেয়েকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেবে সেটা বুঝতে পারিনি। নাজিম উদ্দিনের বাড়ি মহাবৈ গ্রামে। প্রতিবন্ধীদের তালিকা প্রণয়নের সময় সমাজসেবা কার্যালয় নাজিম উদ্দিন নামে ওই ব্যক্তির সহায়তা নিয়েছিল।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা ইনসান আলী বলেন, ভুলবশত সুস্থদের নাম তালিকায় উঠে যেতে পারে। তবে ধরা পড়লে তাদের স্থলে প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের প্রতিস্থাপন করে সংশোধন করা হবে।