৮ বছর ধরে অকেজো এক্স-রে মেশিন

ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশ: ২২ নভেম্বর ২০২০

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

৮ বছর ধরে অকেজো এক্স-রে মেশিন

ছবি: ফাইল

অযত্ন আর অবহেলায় ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে আছে আট বছর ধরে। মেশিনটি বিকল থাকায় বেশি টাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে গিয়ে এক্স-রে করতে হচ্ছে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা হতদরিদ্র রোগীদের। এতে নানা ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হচ্ছে রোগীদের।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার সাড়ে চার লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবায় কেন্দ্রীয় ঔষধাগার তেজগাঁও থেকে ২০০৪ সালের ১৩ জুন ছয় লাখ ৯৭ হাজার ৬২০ টাকা মূল্যের ৩০০ এমএর অত্যাধুনিক কোরিয়ান লিস্টেন কোম্পানির কম্পিউটারাইজড সিস্টেম নতুন এক্স-রে মেশিনটি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই সময় কেন্দ্রীয় ঔষধাগার মেশিনটি ঠান্ডা রাখার জন্য সঙ্গে একটি ৩০ হাজার ৭১৬ টাকা মূল্যের এয়ারকন্ডিশনসহ আরও সাত লাখ ২৮ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের অন্যান্য আসবাবপত্র দেয়।

তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মদন কুমার দত্ত দায়িত্ব পালনের শেষ সময়ে ২০০৪ সালের জুলাই মাসে আসবাবপত্রসহ হাসপাতালের উপযোগী ৬নং একটি কক্ষে বরাদ্দকৃত অত্যাধুনিক এই এক্স-রে মেশিনটি স্থাপন করেন। ওই সময় এক্স-রে সেবা নিতে আসা হতদরিদ্র রোগীরা বেশ কিছুদিন সেবা পান। অভিযোগ উঠেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আব্দুল কুদ্দুছ থাকাকালীন অযত্ন অবহেলায় মেশিনটি অকেজো হয়। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পদোন্নতি পান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কুদ্দুছ অত্যাধুনিক এ এক্স-রে মেশিনটি নির্দিষ্ট ৬নং কক্ষ থেকে স্থানান্তর করেন হাসপাতালের পরিত্যক্ত ১২নং কক্ষে।

পরিত্যক্ত ভবনে স্থাপন করার পর থেকে সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেই থেকে মেশিনটি হাসপাতালের ১২নং কক্ষে তালাবদ্ধ।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেকনোলজিস্ট জুলফিকার আলী হায়দার বলেন, তিনি ২০১১ সালের অক্টোবরে যোগদানের পর থেকে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন অকেজো অবস্থায় দেখতে পান। একটি এক্স-রেও তিনি করতে পারেননি। পরিত্যক্ত ভবনে মেশিন রাখায় বৃষ্টির পানি পড়ে তাতে মরীচিকা পড়ে গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিধান চন্দ্র দেবনাথ বলেন, অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করলেও তা আর চালু হবে না। নতুন মেশিন বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হয়েছে।