কমলনগরে ধর্ষণ মামলা করে বিপাকে পড়েছে ধর্ষণের শিকার এক তরুণীর পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, মামলার পর থেকে আসামি পক্ষ ওই তরুণীসহ তার স্বজনদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। এতে তরুণীসহ তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এ অবস্থায় অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনসহ (২৫) মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

ধর্ষণের শিকার উপজেলার ইসলামগঞ্জ এলাকার ভুক্তভোগী ওই তরুণীর পরিবার জানায়, প্রতিবেশী মোজাম্মেলের ছেলে সাদ্দাম তরুণীটিকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। গত ২ ডিসেম্বর রাতে তরুণীর বাবা-মা বাড়িতে না থাকার সুযোগে সাদ্দাম কৌশলে ঘরে ঢুকে একা পেয়ে তরুণীটিকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে তার চিৎকারে বাড়ির লোকজন এসে সাদ্দামকে ধরে ফেলে। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হাতে তাকে তুলে দেওয়া হয়। রাতেই গ্রাম পুলিশ সদস্য সাহাব উদ্দিন ধর্ষক সাদ্দামকে থানায় নেওয়ার জন্য রওনা দেন। এ সময় সাদ্দামের ভাই নূর আলম ও শাহিন গ্রাম পুলিশের কাছ থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে বৈঠকে বসলে সাদ্দামের পরিবার তরুণীর সঙ্গে সাদ্দামের বিয়ের আয়োজনের কথা বলে ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার অনুরোধ করে। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ দুই সপ্তাহ পরও কোনো সমাধান হয়নি। উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী তরুণী নিজেই বাদী হয়ে ১৫ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষক সাদ্দামসহ তিনজনকে আসামিকে করে মামলা করেন। বিচারিক হাকিম মামলাটি তদন্তের জন্য নোয়াখালী পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে মামলার খবর পেয়ে সাদ্দামের পরিবার তড়িঘড়ি করে গত ২৬ ডিসেম্বর পার্শ্ববর্তী গ্রামে তাকে বিয়ে দেয়। এখন তার নিজের পরিবারসহ শ্বশুরপক্ষের লোকজন মামলার বাদীসহ পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়ে আসছে। এতে তরুণীর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে বলে জানায় তারা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইর পরিদর্শক আনোয়ার-উল-ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী ওই তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়েছে। আসামি পক্ষের হুমকির বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় একটি মামলা বা জিডি করার পরামর্শ দেন তিনি। এ বিষয়ে সাদ্দাম হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মন্তব্য করুন