লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে প্রতিনিয়ত প্রকৃতি ও প্রতিবেশের উপাদান মাটি, পানি ও বাতাসের গুণগত পরিবর্তন হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃতি ও প্রতিবেশের অপরিহার্য অংশ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন। লবণাক্ততা বৃদ্ধিতে কম লবণাক্ত এবং লবণহীন মাটির উদ্ভিদের বীজের অঙ্কুরোদ্গম, ফুল-ফল ধারণ, বৃদ্ধি ও সংখ্যা ক্রমাগত কমে পুরোপরি উদ্ভিদশূন্য হয়ে যাচ্ছে। পুরো দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকার মানুষ শারীরিক, মানসিক, আর্থিকভাবে প্রভাবিত হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের জীবনচক্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ছে। একশ্রেণির মানুষ অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং এর বিরূপ প্রভাবকে ত্বরান্বিত করছে। লবণাক্ততাকে সহনীয় পর্যায়ে নিতে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।

পুনরায় যাতে নতুন স্থানে লবণাক্ততা বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে জনগণ ও প্রশাসনের উদ্যোগে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নিতে হবে।

ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে স্থানীয় নদী ও খালগুলো খনন করে জোয়ারের পানি ধারণের। বেড়িবাঁধের ভেতরে লবণ পানির প্রবেশ ঘটানো যাবে না, যা স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিশ্চিত করা জরুরি।

লবণাক্ততা বৃদ্ধির স্থানগুলোতে লবণসহিষ্ণু জাতের টেকসই চাষাবাদের প্রবর্তন করতে হবে এবং তাতে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।

অবশ্যই পরিবেশ প্রতিক্রিয়া যাচাই করে নতুন প্রকল্প গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নিতে হবে।

সব পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে।

লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণ হতে পারে এমন প্রকল্পকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।

সরকারি ও অন্যান্য গবেষণা কেন্দ্রকে নিয়মিত বিভিন্ন স্থানে লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণ এবং বৃদ্ধির মাত্রা নিরূপণ করে তা মানুষের মাঝে সচেতনতার কাজে ব্যবহার করতে হবে।

অধ্যাপক, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

মন্তব্য করুন