দুর্গাপুর

পুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২১

খলিলুর রহমান শেখ, নেত্রকোনা

পুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

দুর্গাপুর পৌরসভার বাগিচাপাড়ায় পদ্মপুকুর ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ- সমকাল

উচ্চ আদালতের আদেশ- ব্যক্তিমালিকানাধীন পুকুরও হবে প্রাকৃতিক জলাধার। দুর্গাপুরে তা কার্যকর হচ্ছে না। পৌরসভার বাগিচাপাড়ায় শতবর্ষী পদ্মপুকুর কৌশলে দখলে নিয়ে ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার বিপ্লব কৃষ্ণ রায় ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে দুর্গাপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র কামাল পাশা জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও রোববার পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি। বিপ্লব কর্মকার দখলের বিষয়টি অস্বীকার করে ওই জমি তার নিজের এবং এটি একটি মজা পুকুর ছিল বলে দাবি করেন।

দুর্গাপুর পৌরসভার বাগিচাপাড়ার বাসিন্দা দুর্গাপুর পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান কামাল পাশা এলাকাবাসীর পক্ষে গত বছর ১৮ মার্চ নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, থানা পুলিশসহ বিভিন্ন দপ্তরকে জানিয়েছেন এবং এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। কিন্তু এ ব্যাপারে গতকাল রোববার পর্যন্ত কোনো কাজ হয়নি।

দুর্গাপুর পৌরসভার বাগিচাপাড়া এলাকায় দুর্গাপুর মৌজায় আরএস ৭৬২ এবং আরওআর তথা এসএ খতিয়ানে ২৩২১ দাগে ৬১ শতাংশ ভূমিতে শতবর্ষী পুকুর ছিল; নাম পদ্মপুকুর, যেখানে সারাবছর পানি থাকত। বর্ষায় চারপাশের বাসাবাড়ির পানি ওই পুকুরে জমা হতো। পুকুরের চারপাশের মানুষ পুকুরটির পানি প্রাত্যহিক কাজে ব্যবহার করত। ১৯৬৫-৬৬ সালে সরকার পুকুরটি অ্যাকোয়ার করে নেয়। আরএস এবং আরওআরে পদ্মপুকুর হিসেবে চিহ্নিত। ২০০১-০২ অর্থবছরে সরকারি অর্থায়নে পৌরসভা পুকুরটি সংরক্ষণে গার্ডওয়াল নির্মাণ করে। সর্বশেষ ভূমি জরিপে পুকুরটি বিপ্লব কৃষ্ণ রায় কৌশলে প্রয়াত বাবা বিমল কৃষ্ণ রায়ের নামে করিয়ে নেন। পুকুরে বালি ও মাটি ফেলে ভরাট  করা হচ্ছে। এতে বর্ষায় জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে। বাগিচাপাড়ায় বিদ্যমান সরকারি জলাশয়টি ছিল কালের সাক্ষী। সৌন্দর্যমণ্ডিত পদ্মপুকুরটি ব্যক্তির দখলে চলে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিপ্লব কৃষ্ণ রায় বলেন, জলাশয় নয়; এটি একটি মজা পুকুর, যা আমার দখলে রয়েছে। সরকারিভাবে আমার বাবা বন্দোবস্ত নিয়েছিলেন। আমি এ জায়গা ভরাট ও ভবন নির্মাণের কাজ করতেই পারি। নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছি। ওই জমির বিআরএস ও খারিজ আমার নামে। স্থানীয় কিছু লোক এ নিয়ে বিরোধিতা করছেন।

ইউএনও ফারজানা খানম জানান, পুকুরটি নিয়ে এলাকাবাসীর দু'পক্ষের মাঝে টানাটানি চলছে। দখলকারী বিপ্লব কৃষ্ণ রায়ের লিজ মানির রেকর্ড রয়েছে। অভিযোগটি তিনি আরও গভীরভাবে খতিয়ে দেখবেন।