বছরে যে পরিমাণ গম ও ভুট্টার চাহিদা রয়েছে তার মাত্র ৪৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ উৎপাদন হয় দেশে। অর্থাৎ, মোট চাহিদার ৫১ দশমিক ৫৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। অথচ নতুন নতুন জাতের গম ও ভুট্টা বীজ উদ্ভাবন হওয়ায় বেড়েছে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন নতুন জাত উদ্ভাবিত হলেও প্রয়োজনীয় জমির অভাবে প্রজনন বীজ উৎপাদন হচ্ছে না। যার ফলে উচ্চ ফলনশীল এসব জাতের বীজ সম্প্রসারণে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রজনন বীজ সম্প্রসারণে সরকারিভাবে জমি বরাদ্দ কিংবা ইজারা প্রদান করা হলে চাহিদামাফিক উৎপাদন হবে এই শস্য দুটি। কমবে আমদানিনির্ভরতা।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান কার্যালয় দিনাজপুরের নশিপুরে। এর পাঁচটি আঞ্চলিক কেন্দ্র, দুটি বীজ উৎপাদন কেন্দ্র, ১৪টি বিভাগ ও ১০টি শাখা রয়েছে।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে দেশে গমের চাহিদা ছিল ৭১ দশমিক ২২ লাখ টন। যার মধ্যে দেশে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১২ লাখ টন। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়েছে ৬১ দশমিক ২২ লাখ টন। গমের তৈরি খাদ্যপণ্য উৎপাদনে ৮৩ দশমিক ১১ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়েছে। একই বছর ভুট্টার চাহিদা ছিল ৬৫ লাখ টন যার মধ্যে দেশে উৎপাদন হয়েছে ৫৪ লাখ টন। ফলে বিদেশ থেকে ভুট্টা আমদানি করতে হয়েছে প্রায় ১১ লাখ টন। হিসাব বলছে, প্রতি বছর যে পরিমাণ গম ও ভুট্টা আমদানি করতে হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য প্রায় ১৭ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে ৩ দশমিক ৪২ লাখ হেক্টর জমিতে গম চাষ হচ্ছে। ফলন হচ্ছে হেক্টরপ্রতি ৩ দশমিক ৬৮ টন। গম চাষের জমির পরিমাণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। এ যাবৎ প্রতিষ্ঠানটি গমের ৩৩টি জাত উদ্ভাবন করেছে। এদিকে দেশে এবার ৫ দশমিক ৫৪ লাখ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। ফলন হয়েছে হেক্টরপ্রতি ৯ দশমিক ৭৪ টন। এ যাবৎ প্রতিষ্ঠানটি ভুট্টার ১৯ জাত উদ্ভাবন করেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব বলছে, প্রতি বছর গমের চাহিদা প্রায় ১৩ শতাংশ হারে বাড়ছে। চাহিদা পূরণে আমদানিও বাড়ছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মপরিকল্পনায় ধরা হয়েছে, আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে গম চাষ হবে প্রায় ৪ দশমিক ১১ লাখ হেক্টর জমিতে। আর একই সময়ে দেশে ৬ দশমিক ৬৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হবে। আগামী ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা (২০১৯-৩০ সাল) অনুযায়ী দেশে গম চাষের জমির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪ দশমিক ৪৫ হেক্টর। ভুট্টা চাষের জমির পরিমাণ দাঁড়াবে ৭ দশমিক ৩৮ হেক্টর। এই কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন জাত নিয়ে কাজ করছেন। সে ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমি-স্বল্পতা।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে প্রজনন বীজ উৎপাদনের জন্য মোট জমি রয়েছে গমের ১৫ একর এবং ভুট্টার ১০ একর। এখান থেকে প্রতি বছর গমের প্রায় ৬০ টন ও ভুট্টার প্রায় ৩৫০ টন প্রজনন বীজ উৎপাদন করা হয়। তবে আগামী ১০ বছরের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী গমের জন্য ১৫০ টন এবং ভুট্টার জন্য চার হাজার টন প্রজনন বীজ উদ্ভাবন করা প্রয়োজন। এজন্য গম চাষের প্রায় ৪০ একর এবং ভুট্টা চাষের জন্য প্রায় ২০০ একর জমি প্রয়োজন।

বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক এছরাইল হোসেন বলেন, গম ও ভুট্টার উন্নত জাত নিয়ে গবেষণার জন্য অধিক পরিমাণ প্রজনন বীজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত জায়গা। আমাদের এখানে যে পরিমাণ জায়গা আছে, তা দিয়ে চাহিদামাফিক প্রজনন বীজ উৎপাদন করা যায় না। সরকার যদি বীজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেয় কিংবা ইজারাও দেয়, তাহলে দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণে এই ফসল দুটি ভূমিকা রাখতে পারবে।

মন্তব্য করুন