যশোরের মনিরামপুরে লাউড়ী-রামনগর কামিল (এমএ) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির ১০ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। সম্প্রতি একই সঙ্গে ১০ সদস্য পদত্যাগ করায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়।

জানা যায়, ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় লাউড়ী-রামনগর কামিল (এমএ) মাদ্রাসাটি। গত বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী গত জুন মাস থেকে দেশের সব ফাজিল এবং কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতির পদ থেকে সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীদের বাদ দিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে মোতাবেক লাউড়ী-রামনগর কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কেএম মুফিজুর রহমান যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (শিক্ষা-আইসিটি) গভর্নিং বডির সভাপতি করা হয়। এ সময় অধ্যক্ষের আস্থাভাজন ব্যক্তিদের নাম দিয়ে মোট ১৫ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করানো হয় গত আগস্ট মাসে। নিয়ম রয়েছে, অনুমোদনের পর সদস্য সচিব মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কমিটির সভাপতির অনুমতিক্রমে প্রথম সভা আহ্বান করবেন।

অধ্যক্ষ জানান, এ সময় সভাপতি মাদ্রাসার পরিবর্তে ২৩ ডিসেম্বর তার কার্যালয়ে (যশোর ডিসি অফিসে) সভা আহ্বান করতে বলেন। এ ছাড়া ওই সভায় অধ্যক্ষকে মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের হিসাব উত্থাপন করতেও নির্দেশনা দেন। তবে অধ্যক্ষ এবং কতিপয় সদস্য এ বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিভাবক সদস্য মঈন খান জানান, মাদ্রাসার পরিবর্তে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে সভায় অংশ নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব না। তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

অপর সদস্য এসএম আনিছুর রহমান লিটন জানান, ব্যবসায়িক কাজে ব্যস্ত থাকায় তার পক্ষে মাদ্রাসার কর্মকাণ্ডে সময় দেওয়া সম্ভব না। তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

বিদ্যোৎসাহী সদস্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহমেদ শফি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কমিটিতে থাকা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন।

অভিভাবক সদস্য আহাদুল করিম পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এর আগে এ মাদ্রাসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক। তখন অধিকাংশ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার প্রশ্ন, তবে এখন কেন সেখানে সভা করা যাবে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক সদস্য জানান, অধ্যক্ষ হিসাবে দিতে ব্যর্থ হবেন এমন আশঙ্কায় তার আস্থাভাজন সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে পদত্যাগ করিয়েছেন।

কমিটির সহসভাপতি (দাতা) জবেদ আলী সরদার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, মূলত মাদ্রাসার আয়-ব্যয়ের প্রায় কোটি টাকার হিসাব চাওয়ায় অধ্যক্ষ নাখোশ হয়ে কমিটি বাতিল করে অ্যাডহক কমিটি গঠনের ষড়যন্ত্র শুরু করেছেন।

অধ্যক্ষ কেএম মুফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, আয়-ব্যয়ের সব হিসাব তার কাছে আছে। শুধু জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সভায় অংশ না নেওয়ার জন্য সদস্যরা পদত্যাগ করেছেন। ১০ সদস্যের পদত্যাগপত্র তিনি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছেন।

কমিটির সভাপতি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা-আইসিটি) শাম্মী ইসলাম জানান, সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়টি তাকে কেউ অবহিত করেননি। তবে, করোনায় মাদ্রাসার পরিবর্তে তার কার্যালয়ে সভা আহ্বান এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।

মন্তব্য করুন