মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দুই শতক জমি ও সেমিপাকা ঘর দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ৬৯ হাজার ঘর ও জমি বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে :

নেত্রকোনা :'জীবনে কোনো দিন স্বপ্নেও ভাবিনি পাক্কা (পাকা) ঘরে ঘুমাইতে পারবাম। শেখ হাসিনা আমরারে পাক্কা ঘরে থাহনের সুযোগ কইরা দিছে। আল্লায় তারে আরও অনেক দিন বাঁচাইয়া রাখুক।' কথাগুলো বলছিলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার নূরপুর গ্রামের এক ব্যক্তির আশ্রয়ে থাকা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ফজর বানু (৬৫)। বাড়ি বা জমি বলতে তার কিছুই ছিল না। তিনি এখন আধাপাকা ঘর পাচ্ছেন। আরও পাচ্ছেন একখণ্ড জমি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় গৃহীত 'ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও গৃহ প্রদান কার্যক্রম'-এর আওতায় এ জমি ও ঘর দেওয়া হচ্ছে তাকে। শুধু ফজর বানুই নন, এমন ঘর ও জমি পাচ্ছেন জেলায় ১ হাজার ৩০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন দরিদ্র মানুষ। প্রত্যেকের নামে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে দুই শতক করে খাসজমি। আর ঘর নির্মাণ বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার করে টাকা, যার পুরোটাই বহন করা হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। ঘর ও জমি পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়েছেন হতদরিদ্র পরিবারের সদস্যরা।

জেলা প্রশাসক কাজী আবদুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ২৩ জানুয়ারি শনিবার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঘর ও জমি বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ওই সব ঘরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হয়েছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) :উপজেলার ৪৩০ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন হতদরিদ্র মানুষ পাচ্ছেন ঘর ও জমি। নির্মিত ১৯ দশমিক ৬ ফুট বাই ২২ ফুটের দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্নাঘর, সংযুক্ত বাথরুম ও সামনে বারান্দাসহ রঙিন টিনের ছাউনি দ্বারা এসব ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছে।

গোয়ালন্দের ইউএনও আমিনুল ইসলাম জানান, প্রত্যেকটি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। এ উপজেলায় দ্বিতীয় ধাপে 'খ' শ্রেণিভুক্ত ৭১৩টি পরিবারের ঘরের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে আরেকটি প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে নদীভাঙনের শিকার এ উপজেলায় ঘরের প্রয়োজন অন্তত ৩ হাজার।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গৃহহীনদের ঘর প্রদান উদ্বোধনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম জানান, জেলায় ১২ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ৭৬০ জন গৃহহীনের জন্য ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। এর মধ্যে সদরে ১২০টি, পাংশায় ১০০টি, কালুখালীতে ৪০টি, বান্দিতে ৭০টি ও গোয়ালন্দে ৪৩০টি। ইতোমধ্যে ৬৩১টি ঘর নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ঘর দ্রুত প্রস্তুত করে উপকারভোগীদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :সরেজমিন বুধবার বিকেলে দেখা যায়, আখাউড়ার চরনারায়ণপুরে আশ্রয়ণ-২-এর আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন ৪৫টি পরিবারের জন্য ৪৫টি ঘর নির্মাণকাজ প্রায় শেষের পথে। বসানো হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। বিদ্যুতের তার যাচ্ছে ঘরে ঘরে। স্থানে স্থানে বসানো হয়েছে টিউবওয়েল।

এ বিষয়ে আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ-আলম বলেন, এ উপজেলায় ৬৫১ জন ভূমিহীনের তালিকা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৪৫টি পরিবার পাচ্ছে ভূমি ও ঘর। এসব ঘরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে।

দাকোপ (খুলনা) :'আশ্রয়ণে অধিকার, শেখ হাসিনার উপহার' প্রতিপাদ্য নিয়ে মুজিব শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ প্রকল্প-২-এর আওতায় খুলনার দাকোপ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ভূমিহীন ও গৃহহীন ১৪০ পরিবার পাচ্ছে স্বপ্নের নীড়।

এ বিষয়ে ইউএনও মিন্টু বিশ্বাস জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪০টি ঘর উপজেলার প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা হবে। যাচাই-বাছাইসহ তালিকা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঘরগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। দাকোপ উপজেলার বাজুয়া, বানিশান্তা, তিলডাঙ্গা, পানখালী ও লাউডোব ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত এ ঘরগুলোর চাবি নির্ধারিত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এ ছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক হাজার ৩১৯ পরিবার, টাঙ্গাইলে এক হাজার ১৭৪, নওগাঁয় ১ হাজার ৫৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক হাজার ৯১, নাটোরে ৫৫৮ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ২৭২, লক্ষ্মীপুরে ২০০, পিরোজপুরে এক হাজার ১৭৫, নরসিংদীতে ২২১, নীলফামারীর ডোমারে ৩৮, হবিগঞ্জে ৭৮৭, রাজবাড়ীতে ৭৬০, বাগেরহাটে ৪৩৩, গোপালগঞ্জে ৭৮৭ পরিবার পাচ্ছে ঘর ও জমি।

মন্তব্য করুন