গোপালগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভাটিয়াপাড়া সেচ ও পানি নিস্কাশন খাল বন্ধ করে কালনা সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ছয় গ্রামের দুটি বিলের দুই হাজার হেক্টর জমি জলাবদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা খালের পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ওই খাল বন্ধ করে সংযোগ সড়ক নির্মাণের পরিবর্তে খালের ওপর সেতু নির্মাণ করে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কালনা সেতু বাস্তবায়নকারী সংস্থাকে চিঠি দিয়েছে।

জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি নান্টু শরীফ বলেন, দুটি বিলে সেচ ও পানি নিস্কাশনের একমাত্র খাল ভাটিয়াপাড়া খাল। এ খালের পানি দিয়ে ভাটিয়াপাড়া, বরাশুর, ধূসর, বুধপাশা, রাতইল ও পোনা গ্রামের ধূসর বিল ও বিলপবনের বিলের চাষাবাদ ও সেচ কাজ করে কৃষক। এ খাল দিয়ে মধুমতী নদীতে পানি ওঠানামা করে। এখন এ খাল বন্ধ করে মধুমতী নদীর ওপর নির্মিত কালনা সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ করা হচ্ছে। এমনকি পাইপ লাইনের মাধ্যমে বালু এনে খালের মধ্যে মজুদ করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এতে ওই দুই বিলের দুই হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বোরো আবাদ ও সেচ ব্যবস্থা। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়বে। তাই আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের চিঠির বাস্তবায়ন চাচ্ছি।

বুধপাশা গ্রামের বেলাল হোসেন বলেন, খাল বন্ধ করে সড়ক নির্মাণের কারণে বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাশন না হওয়ায় এসব এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। শুস্ক মৌসুমেও বোরো আবাদে সেচ সংকট দেখা দেবে। কোনো কোনো এলাকায় বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়বে। জলাবদ্ধতার কারণে বর্ষা মৌসুমে এসব এলাকার ফসল ডুবে হাজার হাজার কৃষক অর্থনৈতিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা রেখে সড়ক নির্মাণকাজ করা হোক।

কৃষক বাবু শরীফ বলেন, খাল ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করলে আগামী বছর আর এসব জমিতে চাষাবাদ করা যাবে না। এখনই কোনো স্থায়ী উদ্যোগ না নিলে আগামীতে এসব এলাকার ফসলি জমিতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দেবে।

খালের তীরবর্তী বরাশুর গ্রামের বাসিন্দা সুফিয়া বেগম বলেন, খাল ভরাট করে সড়ক নির্মাণ শুরু ও খালের মধ্যে বালুর চাতাল করে সেখানে বালু ফেলার পর থেকে একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের বাড়িঘরে পানি উঠে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলের ঘর, রান্নাঘর ও সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। আমাদের কষ্টের শেষ থাকে না।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনেম কনস্ট্রাকশনের মহাসড়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জোনায়েদ রাহবার বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ সওজ ও পাউবোর ওপর নির্ভর করছে। আমরা তো ঠিকাদার। আমাদের যেভাবে নির্দেশ দেবে, আমরা সেভাবে কাজ করব।

নির্মাণাধীন সংযোগ সড়কের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিপিএম (সওজ) প্রকৌশলী সৈয়দ গিয়াসউদ্দিন জানান, খালটি অনেক আগে থেকে বন্ধ ছিল। কাজ বন্ধ রাখার ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

মন্তব্য করুন