ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী এবং শ্রীবর্দী উপজেলার পাহাড়ি নদী ও ঝর্ণার তীর ভেঙে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে পাহাড়ি টিলা ও সমতল ভূমি ধসে পড়ছে। ফলে পাহাড়ি গাছপালা উপড়ে পড়ে পরিবেশের বিপর্যয়

ঘটছে। আবার কতিপয় বালুখেকো ব্যবসায়ী ইজারার শর্ত না মেনে নদীর চরের পরিবর্তে নদী বা পাহাড়ি

ঝর্ণার তীরবর্তী সমতল ভূমি খুঁড়ে ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করছে। এতে হুমকির মূখে পড়েছে নদীর গতিপথ। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।

প্রশাসনের নাকের ডগায় ও গারো পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে সারারাত লাইট জ্বালিয়ে এসব ধ্বংসলীলা চললেও প্রতিকারের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। গারো পাহাড়ের বুক চিরে এসব বালু আর পাথর উত্তোলন করছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। অবশ্য মাঝেমধ্যে দায়সারা গোছের ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জেল-জরিমানা করা হলেও প্রশাসনের লোকজন ফিরে গেলে আবার শুরু হয় বালু উত্তোলন। বালুর সঙ্গে পাথরও উত্তোলন করছে এসব বালুখেকো। রাতে পাহাড় খুঁড়ে পাথর উত্তোলনের মহোৎসব চলছে দীর্ঘদিন। সারারাত চলে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনে ব্যস্ত শ্যালোমেশিন। শেষ রাতের দিকে প্রতিদিন ২০-২৫ ট্রলি ও ট্রাকে এসব অবৈধ পাথর পাচার হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে জানা যায়, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে চলতি বাংলা সনের জন্য ভোগাই নদীর আন্ধারুপাড়া, ফুলপুর, মণ্ডলিয়াপাড়া, তেরেঙ্গাপাড়া- এ চার মৌজায় ১২ একর ৩২ শতক নদীর চর বালুমহাল হিসেবে প্রায় এ কোটি ৩৯ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইলিয়াস এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান এ বছর ১ বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত ইজারা নিয়ে রয়েলটি আদায় করছে। ঝুট-ঝামেলা মিটাতে মেশিন মালিকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা হারে অতিরিক্ত অফেরতযোগ্য অর্থ আদায় করা হয়েছে। এর পর ইজারার নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে ভোগাই নদীর বালু উত্তোলন। ফলে যত্রতত্র বোরিং ও নিষিদ্ধ এলাকায় ড্রেজিংসহ নদীতীরবর্তী সমতল ভূমি, আবাদি-অনাবাদি জমি থেকে দেদার ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ বদলে যাচ্ছে। বাড়ছে পাহাড়ি ঢলে বন্যার ঝুঁকি। বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মোজাম্মেল হোসেন মুজা নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অন্যদিকে বালু পরিবহনের ক্ষেত্রে ১০ চাকার ট্রাকে ৪০-৪৫ টন অতিরিক্ত বালু ভর্তি করে স্থানান্তর করায় গ্রামীণ সড়কগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আমাদের আওতায় উপজেলায় সর্বমোট ৭০২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে বর্তমানে পাকা সড়ক প্রায় ৩২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ৫০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক শুধু অতিরিক্ত বালু পরিবহনের কারণেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউএনও মাহফুজুল আলম মাসুম জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে সাজাসহ জরিমানা করা হচ্ছে। ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে বালু উত্তোলন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইজারাদারের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে জানানো হবে।

মন্তব্য করুন