নাটোর শহরের মিরপাড়া এলাকায় বারিষা বেগম নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। রোববার রাতে ভাড়া বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বারিষার স্বজনের দাবি, স্বামী সোহান ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করে হত্যার পর পরিকল্পিতভাবে নাটক সাজিয়েছে।

বারিষা এক সন্তানের জননী এবং জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাচ্চুর নাতনি। এ ঘটনায় সোহানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এলাকাবাসী জানান, শহরের আলাইপুর এলাকার রাকিবুল হাসানের মেয়ে বারিষা বেগম (২০) শহরের নিচাবাজার এলাকায় নানাবাড়িতে থাকা অবস্থায় প্রায় তিন বছর আগে শহরের মিরপাড়া এলাকার সোহেলের ছেলে যুবক হুমায়ন কবির সোহানকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে তালাহ নামে দুই বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর তারা ভাড়া বাসায় বসবাস করতে শুরু করেন। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ স্বামীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ হতো তার। এসব নিয়ে বারিষাকে নির্যাতনও করা হয়। সন্তানের কথা ভেবে সে এসব নীরবে সহ্য করেছেন বলে জানান এলাকাবাসী। একপর্যায়ে গত রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিরপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে বারিষাকে গলায় ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসক হুমায়ন কবির জানান, তারা ওই গৃহবধূকে মৃত অবস্থায় পান।

এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

বারিষার নানা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু অভিযোগ করেন, বারিষার স্বামী সোহান ও তার পরিবারের লোকজন মারধর করে হত্যা করে নাটক সাজিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। বারিষার মৃত্যুর খবর তার স্বামীর পরিবার থেকে কেউ জানায়নি। অন্য লোকের মাধ্যমে তাদের খবর দেওয়া হয়। তিনি নাতনি হত্যার বিচার চান। তার নাতনিকে হত্যার অভিযোগে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।

নাটোর থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, মৃতের স্বামী সোহানকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করুন