টাঙ্গাইলের মধুপুর গড় অঞ্চলে বসবাসকারী গারো, কোচ সম্প্রদায়কে উচ্ছেদের প্রতিবাদে তাদের ১৩টি সংগঠন বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। তাদের দাবি, যে জমিতে তারা বংশপরম্পরায় যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছে, সেই জমি থেকে তাদের উচ্ছেদ করা কোনোভাবেই যুক্তিসংগত নয়।

গতকাল সোমবার সকালে মধুপুর বাসস্ট্যান্ড চত্বরে মানববন্ধনে জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদ, আচিকমিচিক সোসাইটি, বাগাছাস, গাসু, জিএসএফ, আজিয়া, এসিডিএফ, কোচ আদিবাসী সংগঠন, জলছত্র হরিসভা, সিবিএনসি, ইআইপিএলআর, আবিমা আদিবাসী কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেড, পীরগাছা থাংআনি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডসহ ১৩টি সংগঠনের ব্যানারে গড় এলাকার সহস্রাধিক গারো কোচ নারী-পুরুষ ফেস্টুন-ব্যানার হাতে রাস্তার দু'পাশে দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তাদের পূর্বপুরুষরা এ গড় অঞ্চলে উঁচু চালা জমিতে জুমচাষ ও নিচু বাইদ জমিতে ধানচাষ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এভাবে তারা বংশানুক্রমে এ অঞ্চলে বসবাস করছে। সম্প্রতি বন বিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি উদ্ধার-সংক্রান্ত একটি নোটিশ মধুপুর গড়ে বসবাসকারী গারো, কোচদের উচ্ছেদ আতঙ্কে ফেলেছে।

বক্তারা ৬ দফা দাবি জানিয়ে বলেন, আদিবাসীদের ভূমি চিহ্নিত করা হোক। মধুপুর বনাঞ্চলের সংরক্ষিত, জাতীয় উদ্যান, ইকোপার্ক ঘোষণাকে বাতিল করে তাদের সঙ্গে অর্থপূর্ণ আলোচনার ব্যবস্থা করতে হবে। ১৯৮২ সালের আতিয়া বন অধ্যাদেশ বাতিল করে তাদের রেকর্ডকৃত জমির খাজনা আবার চালু করতে হবে। সেই সঙ্গে তাদের স্বত্বদখলীয় ভূমি স্থায়ী বন্দোবস্তের ব্যবস্থা করা, বন মামলাগুলো ভ্রাম্যমাণ আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা ও সামাজিক বনায়ন বাতিল করে প্রাকৃতিক বন রক্ষার দায়িত্ব তথা কমিউনিটি ফরেস্ট্রি বা গ্রামবন পদ্ধতি চালু করতে হবে। পরে মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে বাগাছাসের সভাপতি জন যেত্রার সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, জিএমএডিসির সভাপতি অজয় এ মৃ, ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উইলিয়াম দাজেল, আজিয়া সভাপতি মিঠুন হাগিদক প্রমুখ।

মন্তব্য করুন