কবরস্থানের জায়গায় আশ্রয়ণের ঘর

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২১

গোপালগঞ্জ ও কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

কবরস্থানের জায়গায় আশ্রয়ণের ঘর

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাপাইল গ্রামের একটি কবরস্থানের পাশে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর- সমকাল

গোপালগঞ্জ ও নড়াইল জেলার সীমান্তবর্তী মধুমতী নদী তীরে চাপাইল গ্রামে কবরস্থানের জায়গায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে কালিয়া উপজেলার পওহরডাঙ্গা ইউনিয়নের চাপাইল গ্রামবাসীর পক্ষে মো. মাসুদ রানা গত রোববার নড়াইল জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ শহর থেকে সাড়ে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে মধুমতী নদী। নদীর এক প্রান্তে গোপালগঞ্জ সদরের মানিকদহ গ্রাম। অপর প্রান্তে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার চাপাইল গ্রাম। ওই নদীর ওপর চাপাইল সেতু দু'পাড়ের মধ্যে সেতু তৈরি করেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, চাপাইল গ্রামে কোনো কবরস্থান নেই। এই গ্রামে অন্তত ৭০ একর খাসজমি রয়েছে। এর মধ্যে কিছু জমি ভূমিহীনদের সরকার বন্দোবস্ত দিয়েছে। বাকি ৪৫ একর জমি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। চাপাইল ঘাট-সংলগ্ন মসজিদের সামনের অন্তত ৫০ শতক খাসজমি কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রায় দেড় বছর আগে স্থানীয়দের অনুরোধে কবরস্থান করার মৌখিক সম্মতি দেন। গ্রামের মানুষের অনুদানের ৪ লাখ টাকায় মাটির বেড়িবাঁধ দিয়ে কবরস্থানের উন্নয়ন করা হয়। গত জুলাই মাসে চাপাইল গ্রামের প্রবীণ কাশেম খানের লাশ ওই কবরস্থানে দাফন করা হয়। মসজিদের সামনের কবরস্থানের ওই জায়গায় এখন আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। আবেদনপত্রে কবরস্থানের জায়গা থেকে সরিয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পড়ে থাকা খাসজমিতে নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে।

চাপাইল গ্রামের ভূমিহীন তাহাবুর খান বলেন, এ কবরস্থানে আমার বাবাকে কবর দিয়েছি। এখন বাবার কবরের পাশের জায়গায় আশ্রয়ণের ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে কবরস্থানটি বিপন্ন হচ্ছে। আমরা ভূমিহীন ও গরিব তাই আমাদের কথা প্রশাসন শুনছে না। আমরা এ কবরস্থান রক্ষার দাবি জানাচ্ছি।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, স্থানীয়রা কবরস্থানের জন্য আমার কাছে জমি চেয়ে ছিল। আমি তাদের কোনো জমি বরাদ্দ দেইনি। এমনকি মৌখিকভাবেও তাদের কবরস্থান করার সম্মতি প্রদান করিনি।

নড়াইলের জেলা প্রশাসক মোহাম্মাদ হাবিবুর রহমান বলেন, ওই স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্প হচ্ছে কিনা, তা আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।