ব্যবসায়ীর কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

পূর্বাচলে প্লট বিক্রির নামে জালিয়াতি টাকা ফেরত চাইলে হুমকি প্রতারকের

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২১

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

রাজউকের পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের ১২টি প্লট কিনে দেওয়ার কথা বলে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীর এক কোটি ষোলো লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মোহাম্মদ আসাদ নামের এক প্রতারক। প্রতারণার শিকার ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন দাবি করেছেন, জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ার পর তিনি টাকা ফেরত চাইলে প্রতারক উল্টো তাকে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করছেন।

রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ১৫ নম্বর রোডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, ২০১৯ সালের ১ জুলাই একটি জাতীয় দৈনিকে পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে প্লট বিক্রির একটি বিজ্ঞাপন দেন রূপগঞ্জের পশিবাজার বাগবেড় এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আসাদ। ওই বিজ্ঞাপন দেখে কামাল উদ্দিন যোগাযোগ করলে আসাদ জানান, তিনিসহ আরও কয়েকজন একসঙ্গে রাজউকের পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পের প্লটের কেনাবেচার ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর (দালালি) কাজ করেন। রাজউকের পূর্বাচল উপশহর প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাসিন্দাদের পাঁচ কাঠা ও তিন কাঠার দশটি প্লট রাজউকের বরাদ্দপত্রের ব্যবস্থা করে কামালের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করে দেবেন। এছাড়া বর্তমানে চূড়ান্ত বরাদ্দপত্র রয়েছে এমন তিন কাঠার ও পাঁচ কাঠার আরও দুটি প্লট মালিকদের কাছ থেকে কামালকে কিনে দেওয়ার প্রস্তাব করেন আসাদ। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার আলোচনার পর কামাল জমির মূল্যের অগ্রিম বাবদ আসাদকে এক কোটি ষোলো লাখ বিশ হাজার টাকা দেন। কিন্তু পরে কামাল রাজউকসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, প্লট বিক্রির জন্য যেসব কাগজ আসাদ তাকে দিয়েছেন, তার সবই জাল। বিষয়টি আসাদকে জানালে তিনি টাকা ফেরত দেবেন বলে জানান। কিন্তু টাকা ফেরত না দিয়ে আসাদ যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে তিনি লোকজন পাঠিয়ে কামালকে এ টাকা চাইতে নিষেধ করেন। নিষেধ না শুনলে কামালকে অপহরণ ও হত্যার হুমকি দেন। এ ব্যাপারে কামাল রূপগঞ্জ থানায় জিডি করলে রূপগঞ্জের স্থানীয় একটি গ্রুপের মধ্যস্থতায় পুরো টাকার চারটি চেক দেন আসাদ।

চেক দেওয়ার প্রায় চার মাস পর টাকা না দিয়ে উল্টো কামালের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন আসাদ। মামলায় আসাদ অভিযোগ করেন, কামাল ও তার সহযোগীরা তাকে পিস্তল ঠেকিয়ে জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নিয়েছেন।

এরপর আসাদ আদালতে আরও একটি মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, কামালের নেতৃত্বে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়।

এরপর আসাদের স্ত্রী ময়না আক্তার বাদী হয়ে কামালকে সহায়তা করায় রূপগঞ্জের বাসিন্দা কাইয়ুম মিয়া ও সায়েমের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় আসাদের স্ত্রী দাবি করেন, তাদের হারানো চেক কাইয়ুম মিয়া ও সায়েমের কাছে আছে। তারা এ চেক দিয়ে হয়রানিমূলক মামলা করতে পারে।

কামাল উদ্দিন বলেন, আসাদের চেক জালিয়াতির বিরুদ্ধে আমি আদালতে মামলা করেছি। সে মামলায় আসাদ জামিন পেয়েছেন। নিজের অপকর্ম ঢাকতেই তিনি আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা করেছেন।

অভিযোগের ব্যাপারে মোহাম্মদ আসাদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, টাকা আমি নেইনি। সায়েম ১৬ লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়েছে। সায়েমের টাকার জের আমার ওপর ফেলছেন কামাল উদ্দিন। তিনি আমাকে পিস্তল ঠেকিয়ে ১১টি জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও সাতটি চেকে স্বাক্ষর নিয়েছেন। আমাকে ব্যাপক নির্যাতন করেছেন। এ কারণে আমি ঠিকমতো হাঁটতে পারি না। এজন্য আমি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।