ফুলপুরের জসিম হত্যার স্বীকারোক্তি সুজনের

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২১

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ফুলপুরে ধর্মীয় সভা শুনতে গিয়ে খুন হওয়া দিনমজুর মো. জসিম উদ্দিন হত্যারহস্য উন্মোচন হয়েছে। ধর্মীয় সভা শেষে তাস খেলায় টাকা বাজি ধরে বাজির টাকা নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হওয়ায় শ্বাসরোধ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করা হয়। ঘটনার প্রায় ১৬ দিনের মাথায় মঙ্গলবার অভিযুক্ত সুজন মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করলে হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়।

উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামের কৃষক নিয়াজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন দিনমজুরি করে সংসারের হাল ধরেছিল। ১০ জানুয়ারি রাতে ধীতপুর তালিমুল কুরআন কওমি মাদ্রাসায় ওয়াজ মাহফিলের যায় প্রতিবেশী খলিলুর রহমানের ছেলে মো. সুজন মিয়ার সঙ্গে। কিন্তু সে রাতে আর বাড়ি ফেরেনি জসিম। জসিমের মোবাইল ফোনের নম্বর বন্ধ পেয়ে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয়দের খোঁজাখুঁজি শুরু হলে ১২ জানুয়ারি আমনখোরা বিলের ফিশারির পাড়ে লাশ পাওয়া যায়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে হত্যা করা হয় জসিমকে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

১২ জানুয়ারি নিহতের বাবা নিয়াজ উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে ফুলপুর থানায় একটি মামলা করেন। সেই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশকে। পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার রাতে ময়মনসিংহ সদরের চুরখাই বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয় মো. সুজন মিয়াকে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় জসিমের নিখোঁজ হওয়া মোবাইল ফোনটিও। পরে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার ময়মনসিংহ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬ নম্বর আমলি আদালতের বিচারক দেওয়ান মনরুজ্জামানের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দেয় সুজন মিয়া।

পুলিশ জানিয়েছে, স্বীকারোক্তিতে সুজন মিয়া আদালতে জানায়, পূর্বপরিচিত হওয়ার সুবাদে দু'জন একত্রে ওয়াজ মাহফিল শুনতে যায়। পরে সেখান থেকে তারা একটি দোকান থেকে তাস কিনে নির্জন স্থানে গিয়ে খেলতে বসে। এক হাজার টাকা বাজিতে তাস খেলায় হেরে যায় জসিম উদ্দিন। ওই সময় সুজন টাকা চাওয়ায় দু'জনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জসিমকে আঘাত করে সুজন। পরে গামছা দিয়ে জসিমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় সুজন।

ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ বলেন, তাস খেলার টাকা নিয়ে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। সুজন একাই হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়। প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকারী সুজনকে শনাক্ত করে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতে হত্যার স্বীকারোক্তি দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।