মোংলা বন্দর

জেটি এলাকায় নাব্য সংকট দুর্ঘটনার কবলে জাহাজ

দুর্ঘটনায় পড়ে দুটি বিদেশি জাহাজ

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২০২১

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

মোংলা বন্দরের জেটি এলাকায় নাব্য সংকট তৈরি হয়েছে। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে বন্দরে আসা বিভিন্ন জাহাজ। গত সপ্তাহে মোংলা বন্দরের জেটিতে দুটি বিদেশি জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বন্দর জেটিতে প্যানাডার (রাবার জাতীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা) না থাকায় আঘাত ও ঘর্ষণের কারণে মেশিনারিবোঝাই পর্তুগালের পতাকাবাহী ইউএইচএল ফোকাস দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও নাবিকরা অক্ষত রয়েছেন। এ ব্যাপারে ইউএইচএল ফোকাস জাহাজের ক্যাপ্টেন বন্দরের চেয়ারম্যান ও হারবার মাস্টারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অন্যদিকে, নাব্য সংকটের কারণে ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এমভি তুহিনা একই এলাকায় ডুবোচরে আটকে গেলে সেটি কাত হয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনা দুটি ঘটে। বন্দরে অভিযোগ করেছে জাহাজ কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলেন, এমভি তুহিনা জাহাজের ক্যাপ্টেন অভিযোগ দিয়েছেন, তার জাহাজের তলদেশে মাটিতে আটকে যাচ্ছে ভাটার সময়। কিন্তু গত এক মাসে আরও যে জাহাজগুলো ছিল তারা কোনো অভিযোগ করেননি। অন্য জাহাজের ক্ষতির ব্যাপারে তিনি বলেন, প্যানাডার লাগানোর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ অবস্থায় যতগুলো জাহাজ আসবে তাদের একটু সমস্যা হবে বলেও জানান তিনি।

এমভি তুহিনা জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট আল-সাফার ম্যানেজার সাধন কুমার বলেন, বন্দর জেটির সম্মুখভাগে সাত মিটার গভীরতা রয়েছে বলে বন্দর কর্তৃপক্ষের ঘোষণা রয়েছে। কিন্তু জাহাজটি সেখানে রাখার পর দেখা গেছে, চার থেকে সাড়ে চার মিটার গভীরতা রয়েছে সেখানে। ফলে ভাটার সময় জাহাজটি ডুবোচরে আটকে কাত যায়। এ কারণে ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন।

অন্যদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেশিনারি নিয়ে আসা পর্তুগালের পতাকাবাহী ইউএইচএল ফোকাস গত বৃহস্পতিবার ৯ নম্বর জেটিতে ভেড়ে। সে সময় জেটির বাইরের অংশে প্যানাডার না থাকায় আঘাত ও ঘর্ষণের কারণে জাহাজটির বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট অলসিসের প্রতিনিধি সাখওয়াত হোসেন মিলন বলেন, ক্ষতি উল্লেখ করে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে জাহাজের ক্যাপ্টেন অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে এই বন্দর ব্যবহারে অনীহা প্রকাশ করেছেন বলেও জানান তিনি।

বন্দরের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত বছরের এপ্রিলে বন্দরের ৭ ও ৯ নম্বর জেটি এলাকায় ড্রেজিং করা হয়েছে। মাত্র ৯ মাসের মধ্যে ড্রেজিং এলাকা কীভাবে ভরাট হয়ে যায় এবং নাব্য হারায়- এ নিয়ে অভিযোগও রয়েছে বন্দর ব্যবহারকারীদের। গত বছরের জুলাই মাসে ৫ নম্বর জেটি এলাকায় ড্রেজিং শেষে সিভিল ও হাইড্রোলিকের হারবার বিভাগকে জেটি এলাকার আর কোথাও ড্রেজিয়ের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে কিনা- জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। সেই চিঠির জবাবে হারবার বিভাগ ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা নেই বলে জানায়। কিন্তু সে সময় যদি ড্রেজিং করা হতো, তাহলে বিদেশি জাহাজ দুটি এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। এদিকে হারবার মাস্টার প্রথমে ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে বিরোধিতা করলেও জাহাজ দুর্ঘটনার দায় এড়াতে তড়িঘড়ি করে ওই এলাকায় ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগে চাহিদা জানিয়েছেন।

বন্দরের সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগ জেটি এলাকায় ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তা জানতে চাইলে হারবার বিভাগ এর বিরোধিতা কেন করেছিল- এমন প্রশ্নের জবাবে হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখর উদ্দিন বলেন, তখন নিষেধ করলেও গত দেড় মাস আগে ড্রেজিংয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়েছে সিভিল ও হাইড্রোলিক বিভাগকে। সে অনুযায়ী তাদের শিগগির জেটি এলাকায় ড্রেজিংয়ে কাজ শুরু করার কথা রয়েছে।