বাঁধ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

শ্যামনগরে উপকূল রক্ষা বাঁধ

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

বাঁধ সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ

বালুভর্তি বস্তা ভাঙনকবলিত অংশে ফেলছেন শ্রমিকরা - সমকাল

শ্যামনগর উপজেলার নৈকাটি এলাকায় ভাঙনকবলিত উপকূল রক্ষা বাঁধ সংস্কারের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভাঙনকবলিত অংশে ডাম্পিংসহ প্লেসিংয়ের কাজে বালুভর্তি পর্যাপ্ত বস্তা ব্যবহার না করার অভিযোগ স্থানীয়দের।

এ ছাড়া 'মার্কিং' না করাসহ বস্তায় বালু কম দেওয়া ছাড়াও ঠিকাদারের পরিবর্তে সাব-ঠিকাদার ও শ্রমিক সর্দার দিয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে।

জানা গেছে, আম্পানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত নদী কালিন্দী পাড়ের ৫ নম্বর পোল্ডারের পরানপুর, নিদয়া, নৈকাটিসহ বেশ কয়েকটি অংশের বাঁধ। শুরুতে কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদার কাজ করতে অপারগতা জানালে নতুনভাবে ঠিকাদার নিয়োগের পর ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে সেখানে 'স্লোব' প্রটেকশনের জন্য ডাম্পিংসহ বস্তা প্লেসিংয়ের কাজ শুরু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নৈকাটি অংশে বাঁধ সংস্কারে গুণগত মান রক্ষা করা হচ্ছে না। সিন্ডিকেট করে যেনতেনভাবে সংস্কার কাজ করছেন সাব-ঠিকাদার নিযুক্ত শ্রমিক সর্দার ও তার লোকজন। ফলে মারাত্মক ভাঙনমুখে থাকা সীমান্তবর্তী ওই অংশের বাঁধের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় ও শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তারা।

সরেজমিন শুক্রবার দেখা যায়, শ্রমিক সর্দার দাকোপের সফিকুল ইসলাম গাজীর নেতৃত্বে ১৩ থেকে ১৪ জন শ্রমিক নৈকাটি অংশের ভাঙনে বস্তা প্লেসিংয়ের কাজ করছেন। দীর্ঘক্ষণ সেখানে পাউবোর কোনো প্রতিনিধির উপস্থিতি না মিললেও সকালে গণনার কাজে দুই ব্যক্তি ছিলেন জানিয়ে শ্রমিক সর্দার জানান, ঠিকাদারের কোনো লোক নেই। সাব-ঠিকাদারের কাছ থেকে তারা শুধু বস্তা প্লেসিংয়ের কাজ পেয়েছেন। রাতের বেলা ওই এলাকা থেকে দুই হাজার বস্তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া নিয়ে স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা রাতে ঘুমাচ্ছিলেন বলে জানান। এদিকে পরিদর্শনকালে লক্ষ্য করা যায়, বালুভর্তি বস্তা প্লেসিংয়ের জন্য নৌকায় উঠানো হলেও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত হওয়ায় বস্তাভর্তি নৌকা মাঝনদীতে নিয়ে রাখা হয়।

পিয়ার মুন্সি নামে এক ব্যক্তির অভিযোগ, নৈকাটি অংশের ৮০ মিটার জায়গায় প্লেসিংয়ের কাজে আট হাজারের বেশি বস্তা ব্যবহারের কথা ছিল কার্যাদেশ অনুযায়ী। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে পাউবোর সঙ্গে যোগসাজশ করে ঠিকাদারের লোকজন সেখানে মাত্র ছয় হাজার বস্তা ব্যবহার করছে।

স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, চার দিন আগে প্রায় দুই হাজার বস্তা রাতে অন্যত্র সরিয়ে নেয় পাউবোর লোকজন। বিষয়টি জানাজানি হলে শেষ মুহূর্তে মাত্র ৯৪৬টি বস্তায় মার্কিং করা হয়।

এ বিষয়ে পোল্ডারের দায়িত্বে থাকা সেকশন অফিসার তন্ময় হালদার জানান, পাউবো কর্তৃপক্ষ সরাসরি ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ আদায় করছে। পাশের একটি অংশে কাজের বস্তা নৈকাটি এলাকায় থেকে যাওয়ায় সেগুলো সরানো হয়। দিনে কাজের চাপ থাকায় রাতে সেসব বস্তা নির্দিষ্ট এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। বস্তা মার্কিং করার চেয়ে যথাযথভাবে ডাম্পিং ও প্লেসিং হয়েছে কিনা তা বেশি জরুরি। বস্তা গণনার কাজে স্থানীয়দের না রাখা হলেও দু'জন প্রতিনিধি তাদের বস্তা গণনা শেষে অনুমতি দিলে শ্রমিকরা তা প্লেসিং করেছে বলেও দাবি তার।