স্কুলছাত্রী ধর্ষণকারীদের শাস্তির দাবি

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

স্কুলছাত্রী ধর্ষণকারীদের শাস্তির দাবি

টুঙ্গিপাড়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের প্রতিবাদে ও ধর্ষণকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সোমবার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল - সমকাল

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় স্কুলছাত্রীর ধর্ষণকারীদের শাস্তির দাবিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন মানববন্ধন করেছে।

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত টুঙ্গিপাড়া জিটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণবিরোধী বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শেখ ও নবনির্বাচিত মেয়র শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে মানববন্ধনকারীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে টুঙ্গিপাড়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলো- টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের গওহরডাঙ্গা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মিতুল হোসেন, টুঙ্গিপাড়া গ্রামের আনোয়ার উদ্দিন খানের ছেলে রসুল খান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি শেখ শুকুর আহম্মেদের ছেলে রাজীব শেখ।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভালোবাসা দিবসে বিকেল সাড়ে ৪টায় মেয়েটি কোচিং শেষে বাড়ি ফিরছিল। পথে তিন বখাটে তার পথরোধ করে জোর করে গোপন স্থানে নিয়ে যায়। তারা চেতনানাশক স্প্রে করে মেয়েটির সঙ্গে শারীরিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে জবরদস্তি করে। এরপরও রাজি না হলে তারা মেয়েটির মাথায় আঘাত করে। একপর্যায়ে মেয়েটি সংজ্ঞা হারালে তাকে ওই তিন যুবক ধর্ষণ করে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে অচেতন অবস্থায় ওই ছাত্রীকে বখাটেরা বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানেও তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে পরদিন ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে

উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্কুলছাত্রীর চাচা বলেন, ধর্ষণের পর দুই দিন মেয়েটি অজ্ঞান ছিল। জ্ঞান ফিরে আসার পর তার কাছ থেকে ধর্ষণের বিষয় জেনেছি। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ে। তাই তার চিকিৎসা নিয়েই আমরা ব্যস্ত ছিলাম। এ কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে। কিন্তু মামলার পরও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। আমরা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি এএফএম নাসিম বলেন, মামলার পর আমরা আসামি গ্রেপ্তারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি দ্রুতই আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারব।