গ্রেপ্তার এড়াতে পুরুষশূন্য নয়াগাঁও গ্রাম

সোনারগাঁ

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

সোনারগাঁর পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামে আধিপত্য বিস্তার ও একটি কোম্পানির বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় আলী আহম্মেদ নামে আরও একজনের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান। গতকাল সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে পার্শ্ববর্তী পিরোজপুর গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে বিকেলে তার লাশ দাফন করা হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় পাল্টাপাল্টি মামলার পর নয়াগাঁও গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। ওই গ্রামে নিরাপত্তার জন্য ১৬ সদস্যের একটি পুলিশ দল মোতায়েন করা হয়েছে। মসজিদও মুসল্লিশূন্য হয়ে পড়েছে। ওই গ্রামে বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও গ্রামের হাজি আলাউদ্দিনের সঙ্গে একই এলাকার ব্যবসায়ী সাদেকুর রহমান ওরফে সাদেক মোল্লার আধিপত্য বিস্তার ও একটি কোম্পানির বালু ভরাটকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এ ঘটনায় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে হামলায় ১০ জন আহত হয়। শনিবার উভয় পক্ষের লোকজনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে আলাউদ্দিনের পক্ষের সমর আলী সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর মারা যান। নিহত সমর আলীর ভাই আব্দুল আলী বাদী হয়ে মো. জজ মিয়াকে প্রধান আসামি করে ১৭ জনের নামে মামলা করেন। অপরদিকে আহত সাদেকুর রহমানের স্ত্রী শেফালী বেগম বাদী হয়ে হাজি আলাউদ্দিনকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের মধ্যে সাদেকুর রহমানের পক্ষের আলী আহম্মেদ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোববার মারা যান। সোমবার ময়নাতদন্ত শেষে পার্শ্ববর্তী গ্রাম পিরোজপুরের সামাজিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়েছে।

নয়াগাঁও গ্রামের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সোনারগাঁ থানার এসআই ইয়াউর রহমান বলেন, এ গ্রামে কয়েক বাড়িতে নারী-শিশু ছাড়া কাউকে দেখা যায়নি। পুরুষশূন্য পুরো গ্রাম। আতঙ্কে অনেকেই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। এ গ্রামের নিরাপত্তায় রাত-দিন পরিশ্রম করে যাচ্ছি।

সোনারগাঁ থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। আলী আহম্মদ নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছে, শুনেছি। এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। নয়াগাঁও গ্রামে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।