মোরেলগঞ্জ

অবৈধ বালু ব্যবসা জমজমাট

প্রকাশ: ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ফজলুল হক খোকন, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)

অবৈধ বালু ব্যবসা জমজমাট

মোরেলগঞ্জের দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামে চলছে ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন-সমকাল

মোরেলগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে চলছে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বালুদস্যুরা ফসলি মাঠ, পুকুর ও  খাল থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। ড্রেজার দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলনের ফলে এসব জায়গায় ভূমিক্ষয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সরেজমিন জানা গেছে, উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের একরামখালী গ্রামে মাসুম মোল্লা ও আব্দুল মালেক নামের দুই বালু ব্যবসায়ী ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। মাসুম মোল্লা ও আব্দুল মালেকের সঙ্গে কথা বলার জন্য বারবার চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পুটিখালী ইউনিয়নের মঙ্গলের হাট খাল থেকে মতিয়ার রহমান নামের এক বালু ব্যবসায়ী বালু উত্তোলন করে রাস্তার ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করছেন। মতিয়ার রহমানের কাছে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মিরাজ নামের একজনের কথায় রাস্তার ঠিকাদারের কাছে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছি। এ ব্যবসাটি যে অবৈধ সেটা আমি জানি। এর পরও প্রশাসনের অগোচরে ব্যবসা পরিচালনা করছি।

দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের লোকমান শেখ বলইবুনীয়া গ্রামের ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। লোকমান শেখ বলেন, ড্রেজার দিয়ে এভাবে বালু উত্তোলন ব্যবসাটি অবৈধ। এর পরও জীবিকার তাগিদে এ ব্যবসা করছি। একজন প্রবাসী সাগর আহম্মেদ বাড়ি তৈরি করছেন, সেই বাড়িতে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছি। বালু উত্তোলনের জমিও সাগর আহম্মেদের।

নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে ফসলি জমি থেকে বালু উত্তোলন করে রাস্তার ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নে অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলছে বালুর ব্যবসা। মাঠের পর মাঠ বালু উত্তোলন করায় ফসলি জমি বিনষ্ট হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের শতাধিক লোক এ অবৈধ বালুর ব্যবসা চালিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। 

বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী বিপণনের উদ্দেশ্যে কোনো উন্মুক্ত স্থান, নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করা যাবে না। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী পরিবেশগত সংকটাপন্ন ঘোষিত এলাকায় বালু উত্তোলন করা যাবে না।

এলাকাবাসী জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে ফসলি মাঠ, পুকুর, খাল ও নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বড় ধরনের সিন্ডিকেট। বালুদস্যুরা  বিপণনের উদ্দেশ্যে বালু উত্তোলন করায় একদিকে যেমন পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে, অন্যদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। উপজেলা প্রশাসন বালু উত্তোলনকারীদের ড্রেজার মেশিন আটক, যন্ত্রাংশ ধ্বংস, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আসছে। এর পরও বালুদস্যুরা বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন জানান, এসব বালু উত্তোলনকারীর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লাগাতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সম্প্রতি মঙ্গলের হাট নামক স্থান থেকে দুটি ড্রেজারের পাইপ কেটে দেওয়া হয়েছে।