চাকরি হারালেন ১৪ শিক্ষক

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

জেলার নবীনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাকুট অমর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৪ জন খণ্ডকালীন শিক্ষককে কোনো প্রকার নোটিশ না দিয়ে চাকরি থেকে বাদ দিয়ে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। করোনকালে এসব শিক্ষকের বেতন ভাতাও পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় চাকরি হারানো শিক্ষকরা প্রতিকার চেয়ে গত রোববার নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

লিখিত আবেদন থেকে জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট অমর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০১৩ ও ২০১৫ সাল থেকে খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি করে আসছেন নাসরিন আক্তার, সজিব মিয়া, আকবর হোসেন, এনামুল হক, জিল্লুর রহমান, রবিউল আউয়াল, এমরান হোসেন, দুলাল চন্দ্র সাহা, আতিকুল ইসলাম, লক্ষ্মী রানী ভট্টাচার্য্য, রিনা রানী ভট্টাচার্য্য, খলিলুর রহমান, সামিনা আক্তার ও উম্মে হানি।

৪ ফেব্রুয়ারি সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আবারও খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগের জন্য স্থানীয় দুটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিল্লাল মিয়া চৌধুরীর কাছে গেলে তারা জানতে পারেন, সব খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষকের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কাউকে কিছু না জানিয়ে বিনা নোটিশে গোপনে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক ভুক্তভোগী শিক্ষকদের বিদ্যালয়ের সভাপতির সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের সভাপতি সফিকুর রহমানের কাছে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে কথা বললে তিনি ওই শিক্ষকদের চাকরি করতে চাইলে আবারও আবেদন করতে বলেন। পরে শিক্ষকরা ২০২০ সালের মে থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বকেয়া বেতন ভাতা দেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি ওই ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং বেতন ভাতা দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষকরা করোনাকালে প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিলেন। কিন্তু কোনো কিছু না জানিয়ে গোপনে একযোগে সব খণ্ডকালীন সহকারী শিক্ষককে বাদ দেওয়ার কারণে ওই শিক্ষকরা আর্থিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

এক শিক্ষিক জানান, অন্যয়ভাবে তাদের ছাঁটাই করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিল্লাল মিয়া চৌধুরী বলেন, বিদ্যালয়ের তহবিল কম থাকার কারণে কমিটির সিদ্ধান্তে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিটি বেতন দিতে পারে না, স্কুলের তহবিল শূন্য। তবে নতুন শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে শিক্ষকরা চাকরিতে ছিলেন, তারা চাইলে আবেদন করতে পারেন। প্রয়োজনে তাদের মধ্য থেকেই কমিয়ে শিক্ষক নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সফিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি টেলিফোনে কথা না বলে এই প্রতিবেদককে সামনাসামনি কথা বলতে অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, সামনে এসে কথা বললে সুবিধা হবে।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিক বলেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলেছি।