কুমিল্লার মেঘনায় নাজমা বেগম নামে এক নারীকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। এ সময় হত্যা মামলার প্রধান আসামি ভাওরখোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আব্বাসীসহ খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ফাঁসির দাবি জানানো হয়। মানববন্ধনে ওই ইউনিয়নের

কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করে। এতে যোগ দেন জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারাও। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ভাওরখোলা ইউনিয়নের কদমতলা অটোরিকশাস্ট্যান্ড

এলাকায় এসব কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সফিকুল আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান সাইফুল্লা মিয়া রতন শিকদার, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির উদ্দিন শিশির, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাজুল ইসলাম তাজ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মিলন সরকার, উপজেলা যুবলীগের সবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিটন আব্বাসীসহ অনেকে।

এদিকে, সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের বাড়ির বাসিন্দা ও উপজেলা যুবলীগের সবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লিটন আব্বাসী বলেন, খুনি ফারুক আব্বাসী এ পর্যন্ত ৬টি খুন করেছে। তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ক্যাডাররা দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নের মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। ফারুক আব্বাসী এলাকার জমি দখল, ঘুষ বাণিজ্য, মানুষকে তুলে এনে চাঁদা আদায়, মানুষের জমি বিক্রি করে টাকা আদায়, ছেলেমেয়েদের বিয়ে থেকে চাঁদা আদায়, ইউনিয়ন পরিষদের সব কাজে নাগরিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়, মাদক ব্যবসা ও মানুষের ওপর অত্যাচার- সবই করেছে। নিহত নাজমা বেগমের পরিবারের লোকজন এই খুনির ভয়ে ৫ বছর এলাকায় আসতে পারেননি।

গত ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে আব্বাসীর সঙ্গে বিরোধ চলছিল নিহতের দেবর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের। গত নির্বাচনে পরাজিত হয়ে সিরাজ আব্বাসীর ভয়ে পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে যান। দীর্ঘ ৫ বছর পর গত শুক্রবার সিরাজ তার চাচাতো ভাই দিলবরের মেয়ের বিয়ে উপলক্ষে বাড়িতে আসেন।

মন্তব্য করুন