বরুড়ায় হাটবাজার ইজারা নিয়ে দু'পক্ষে সংঘর্ষ

প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২১

কুমিল্লা সংবাদদাতা

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ২৩টি হাটবাজারের ইজারার দরপত্র ক্রয়ে বাধা দেওয়ায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় অন্তত উভয় পক্ষের ছয়জন আহত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে দরপত্র নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন স্থানীয় এমপি নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল।

বরুড়া উপজেলার ২৩টি হাটবাজারের ইজারা দরপত্র ক্রয়-বিক্রয় করার সময়সীমার তৃতীয় দফার মধ্যে প্রথম দফার শেষ দিন ছিল মঙ্গলবার। এ দিন সকাল থেকে স্থানীয় এমপি নাসিমুল আলম চৌধুরী সমর্থিত গ্রুপের নেতাকর্মীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের পাশের কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই কক্ষ থেকে দরপত্র ক্রয় করতে না পেরে নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনে অবস্থান নেন উপজেলা চেয়ারম্যান এ.এন.এম মইনুল ইসলাম সমর্থিত নেতাকর্মীরা। খবর পেয়ে দুপুরের দিকে সাংবাদিকরা উপজেলা পরিষদে গেলে সেখানে অভিযোগ জানাতে আসেন দরপত্র ক্রয় করতে ব্যর্থ উপজেলা চেয়ারম্যানের লোকজন। এ সময় উভয় গ্রুপের বাগ্‌বিতণ্ডার এক পর্যায়ে এমপি সমর্থিত নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে যায়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান সমর্থিত যুবলীগ নেতা আক্তার হোসেন ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা জহিরুল ইসলামসহ ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা জানান, এমপির নির্দেশে তাদের কাছে দরপত্র বিক্রি করা হচ্ছে না। এ ছাড়াও এমপির কর্মীরা অফিসের সামনে মহড়া দেওয়ায় তারা দরপত্র কিনতে না পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েও ব্যর্থ হন। পরে দুপুর ১২টার দিকে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানাতে নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে এলে এখানে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

ওসি ইকবাল বাহার জানান, বাজার ইজারার দরপত্র ক্রয় নিয়ে সকাল থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুলিশ মোতায়েন করা হয়, দুপুরের দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে অফিসের নিচে দু'পক্ষের মধ্যে প্রায় ২০/২৫ মিনিট পর্যন্ত ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুল ইসলাম জানান, সবকিছু ঠিকঠাক চলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক, কোনো সমস্যা নেই। উপজেলা চেয়ারম্যান এ.এন.এম মইনুল ইসলাম জানান, এমপির নির্দেশে আমার দলীয় নেতাকর্মীদের নিকট দরপত্র বিক্রি করা হয়নি, এটা অনভিপ্রেত।

এমপি নাসিমুল আলম চৌধুরী নজরুল জানান, বরুড়ায় কী ঘটেছে তা আমার জানা নেই, কেউ আমাকে

অবহিত করেনি। উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতাকর্মীদের অভিযোগ সত্য নয়, তা ছাড়া আমি নির্দেশ দিয়ে দরপত্র বিক্রি বন্ধ রাখার কেউ নই।