বান্দরবানের লামা উপজেলায় একদল বন্যহাতি তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় হাতির পদপিষ্ট হয়ে রহিমা বেগম (২০) নামে এক বাকপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু হয়েছে। এতে উপজেলার সরই ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি পুইট্টারঝিরি ও আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্বচাম্বী আমতলীপাড়ার পাঁচটি বসতঘরসহ কলাবাগান ও বীজতলার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ১৪-১৫টি হাতি এ তাণ্ডব চালায়। হাতিগুলো ওই গ্রামসংলগ্ন পাহাড়ে অবস্থান করায় আতঙ্কে আছেন স্থানীয়রা।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গহিন পাহাড় থেকে একদল বন্যহাতি মঙ্গলবার রাতে সরই ইউনিয়নের পুইট্টারঝিরি গ্রামে আসে। হাতিগুলো পাড়ার বাসিন্দা আবুল মিয়া, মো. জাহাঙ্গীর, নুরুল কবির ও আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্বচাম্বী আমতলীপাড়ার বাসিন্দা সোলায়মান ও মফিজুর রহমানের বসতঘর ভাঙচুর করে। এ সময় হাতির আক্রমণের টের পেয়ে সোলায়মানের মেয়ে বাকপ্রতিবন্ধী রহিমা বেগম আত্মরক্ষার জন্য ঘর থেকে বের হলে হাতির কবলে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। একই সময় হাতিগুলো ঘরের ধান, চাল, বাগানের কলাগাছ খেয়ে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। এরপর আরব আলী ও মুসলিম উদ্দিনের কলাবাগান ও ধানক্ষেত বিনষ্ট করে দেয় হাতির দলটি।

হাতির আক্রমণের শিকার নুরুল কবির, জাহাঙ্গীর আলম ও সোলায়মান জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ১৪-১৫টি বন্যহাতি গ্রামে ঢুকে পড়ে। এ কথা জানাজানি হলে লোকজন আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে। ভয়েই মানুষ নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। তারা আরও জানান, হাতিগুলো প্রথমে বাড়ির চারদিক ঘেরাও করে ফেলে। বিশেষ করে ঘরের দরজা-জানালার পাশে পাহারাদারের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। আর ঘর ভাঙা শুরু করে। পরে ঘরে থাকা ধান-চাল খেয়ে ফেলে। রাত জেগে আগুনের কুণ্ডলী জ্বালিয়ে রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না।

লামা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানান, হাতির আক্রমণে নিহত প্রতিবন্ধী যুবতীর লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সরই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উল্‌ আলম ও আজিজনগর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এখনও হাতিগুলো এলাকায় অবস্থান করায় লোকজন চরম আতঙ্কে রয়েছেন।

লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এসএম কায়চার জানান, হাতির আক্রমণে মারা যাওয়া যুবতী ও ক্ষতিগ্রস্তদের বন বিভাগের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

মন্তব্য করুন