প্রায় আড়াই দশকের দ্বন্দ্বের জেরে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের জয়পাশা গ্রাম। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একপক্ষ হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে প্রতিপক্ষের অর্ধশতাধিক ঘর-বাড়ি। লুটপাট করেছে লাখ লাখ টাকার সম্পদ।

গত মঙ্গলবার সরেজমিন জানা যায়, জয়পাশা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ আব্দুর রহমান বাশার মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের পরমেশ্বর্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা চাঁন মিয়ার দ্বন্দ্ব চলে আসছে। প্রায় আড়াই দশক ধরে চলা দ্বন্দ্বে উভয়পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে, পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে। দু'পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৮ সালের ৫ অক্টোবর খুন হয় কিশোর নাজিম। সম্প্রতি দু'পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। মাঠ থেকে কলাই চুরির মতো তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোববার সকালে বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ কোনো মামলা বা আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বা হামলার আশঙ্কা রয়েছে।

আব্দুর রহমান বাশারের ছোট ভাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদ্য সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রউফ সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, চাঁন মিয়া চেয়ারম্যানের ভাই হবিবুর রহমানের মদদে ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ ওমর আলী, এই ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাহিদ মেম্বার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাদের লোকজনের কমপক্ষে ৫০টি বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় হামলাকারীরা ২২টি বৈদ্যুতিক মিটার, ১৫টি নলকূপের হাতল, ৩টি টেলিভিশন, ১৬টি রাজহাঁস, দুটি গরু, দুটি ছাগল, গ্যাসের চুলা ও গ্যাস সিলিন্ডার, ৮টি ফ্রিজ, স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ ৪ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে সাহিদ মেম্বার বলেন, বাশার মিয়ার লোকজন আমাদের পক্ষের জয় নামে একটি ছেলেকে ২০ ফেব্রুয়ারি মারধর করে তার বাবা মিঠু শেখকে ধরে নিয়ে যায়। রাতভর তাকে আটকে রেখে নিজেদের দলে ভিড়িয়ে ভোরে ছেড়ে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে আমাদের লোকজন তাদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। তবে কেউ লুটপাট করেনি। লুটপাটের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুর রহমান বাশার অভিযোগ করেন, পুলিশের কাছ থেকে সে রকম সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। আস্থাহীনতার কারণে মামলা করিনি। ঘটনার দিন বারবার থানা এবং ফাঁড়ির পুলিশকে জানালেও পুলিশ পৌঁছতে অনেক সময় নেয়। পুলিশের সামনে ভাঙচুর করলেও তারা হামলাকারীদের বাধা দেয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার করে বোয়ালমারী থানার ওসি মোহাম্মদ নুরুল আলম বলেন, হামলা-সংঘর্ষের পরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়। পুলিশ তো আর জীবন দিতে পারে না। পুলিশের কাজে সন্তুষ্ট না হলে তারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

মন্তব্য করুন