পটুয়াখালী উপকূলের বনাঞ্চলের দিকে লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে স্থানীয় বন খেকোদের। সুযোগ পেলেই তারা গিলে খাচ্ছে বনের মূল্যবান গাছ। এর ফলে দিন দিন উজাড় হচ্ছে উপকূলের সবুজ বেষ্টনী। জেলার উপকূলীয় রাঙ্গাবালী উপজেলার সাগরের কোলঘেঁষে অবস্থিত চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরবেষ্টিন নামক এলাকা থেকে বনাঞ্চল উজাড়ের এমন তথ্য পাওয়া পাওয়া গেছে।

জানা যায়, সত্তরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের পর উপকূল অঞ্চলে বনায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করে সরকার। এ লক্ষ্যে ওই সময় ম্যানগ্রোভ জাতীয় বৃক্ষরোপণের কাজ সীমিত আকারে করলেও ১৯৭৭ সালের দিকে উপকূল অঞ্চলে ৭ হাজার ৭০৯ একর জমিতে বনায়ন করা হয়। ১৯৮২-৮৩ সালে বনভূমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ লাখ ১২ হাজার একরে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলায় ৫০ হাজার একর এলাকাজুড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। এ ছাড়া উপকূল এলাকার চরগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে বিস্তার ঘটেছে বনাঞ্চলের। কিন্তু উপকূলের বনাঞ্চলের দিকে লোলুপ দৃষ্টি পড়েছে বন খেকোদের। তারা নানা অজুহাত দেখিয়ে কেটে সাবাড় করছে বনাঞ্চল। ফলে দিন দিন উজাড় হয়ে যাচ্ছে উপকূলের সবুজ বেষ্টনী।

ওইসব বনখেকোর দাবি, এসব গাছ কোনো বনাঞ্চলের নয়। তারা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির গাছ কেটেছে। তবে, এজন্য জমির মালিকদের গাছের দাম হিসেবে এক থেকে দুই হাজার করে টাকা দিচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই বনখেকো চক্রের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি চরবেষ্টিন এলাকার একজন গাছ ব্যবসায়ী। তার নেতৃত্বেই বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ওই বনখেকো চক্রের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি জানান, উপকূলের বনাঞ্চল থেকে মূল্যবান গাছ কেটে নেওয়ার জন্য রয়েছে একটি সিন্ডিকেট এবং এর সহায়ক হিসেবে কাজ করছেন এই বনখেকো জাহাঙ্গীর হোসেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, যেসব গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে তা ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির। এখানে বন বিভাগের বনাঞ্চল থেকে কোনো গাছ কাটা হয়নি। আমরা জমি মালিকদের কাছ থেকে গাছ কিনেছি এবং খুশি হয়ে তাদের দু-এক হাজার টাকা দিয়েছি। স্থানীয় কিছু লোক আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করছেন।

এ প্রসঙ্গে বন বিভাগের চরমোন্তাজ রেঞ্জের চরবেষ্টিন ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদ খান জানান, এসব গাছ কাটার ক্ষেত্রে আমাদের কাছ থেকে কেউ কোনো অনুমতি নেয়নি। তা ছাড়া এই জমি বন বিভাগের নয়। এ জমি সরকারের ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত। এ জমির দেখভাল করার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকের কিংবা ইউএনও বা সহকারী কমিশনারের (ভূমি)। এখান থেকে কোনো ধরনের গাছ কাটতে হলে তাদের (জেলা কিংবা উপজেলা প্রশাসন) অনুমতি নিতে হবে।

ইউএনও মাশফাকুর রহমান জানান, বন বিভাগের সব জমিই ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত। অর্থাৎ জেলা প্রশাসকের নামে। উপকূলে বনাঞ্চল করার জন্য জেলা প্রশাসক থেকে বন বিভাগ দীর্ঘমেয়াদি লিজ নেয় এবং সব বনাঞ্চলের দেখভাল করার দায়িত্বও বন বিভাগের। তারা যখনই সমস্যা দেখে তখনই চাপিয়ে দেয় এ জমি জেলা প্রশাসকের। এটা ঠিক নয়।

মন্তব্য করুন