পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় জন্মনিবন্ধন জটিলতা ও শিক্ষকদের গাফিলতিতে প্রাথমিকের ছয় হাজার ২৪০ শিক্ষার্থী উপবৃত্তিবঞ্চিত হয়েছে। এ ঘটনায় অভিভাবকদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

উপজেলা শিক্ষা অফিস ও সংশ্নিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, দশমিনা উপজেলায় ১৪৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৬ হাজার ২৮৭ জন ভর্তিযোগ্য শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থী সরকারের উপবৃত্তির আওতায় আসার কথা থাকলেও উপবৃত্তির জন্য অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে পেরেছে ১০ হাজার ৪৭ শিক্ষার্থী। বাকি ছয় হাজার ২৪০ শিক্ষার্থী উপবৃত্তিবঞ্চিত রয়েছে। চলতি বছরের ১০ থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে বিকাশ থেকে নগদ পোর্টালে স্থানান্তরিত অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করার সময়সীমা বেঁধে দেয় সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ওই সময়সীমার মধ্যে ছয় হাজার ২৪০ শিক্ষার্থী জন্মনিবন্ধন সার্ভার জটিলতার কারণে রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি। এ কারণে উপবৃত্তির অনলাইন রেজিস্ট্রেশনে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি। জন্মনিবন্ধন ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ভর্তি করায় শিক্ষকদের গাফিলতির ব্যাপারে ক্ষোভ জানিয়েছেন কয়েকজন অভিভাবক।

৪৫ নম্বর বহরমপুর আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অরিফ হোসেন জানান, তার বিদ্যালয়ে ৪০ জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তিবঞ্চিত রয়েছে। তিনি জানান, এ ব্যাপারে শিক্ষকদের কোনো গাফিলতি নেই। অভিভাবকদের বারবার বলা হলেও তারা নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন জমা দিতে না পারায় উপবৃত্তির জন্য রেজিস্ট্রেশন জমা করা সম্ভব হয়নি।

দশমিনা ইউনিয়ন পরিষদের ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা নাঈম হোসেন জানান, গত তিন মাস সার্ভার জটিলতায় জন্মনিবন্ধনের কাজ করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এটিও আল মামুন জানান, সার্ভার জটিলতা ও অভিভাবকদের গাফিলতির কারণে ছয় হাজার ২৪০ শিক্ষার্থী উপবৃত্তিবঞ্চিত হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমীন জানান, উপজেলায় নির্দিষ্ট সময়ে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন না হওয়ায় ছয় হাজার ২৪০ শিক্ষার্থী উপবৃত্তি থেকে বঞ্চিত হবে।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সায়েদুজ্জামান জানান, ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসের উপবৃত্তি চলতি কিস্তিতে দেওয়া হবে। দশমিনা উপজেলার ছয় হাজার ২৪০ শিক্ষার্থী এই তিন মাসের উপবৃত্তিবঞ্চিত হবে। তিনি আরও জানান, জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত উপবৃত্তির কার্যক্রম শুরু হলে তখন যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সুযোগ দেয়, তাহলে উপবৃত্তিবঞ্চিতরা জন্মনিবন্ধন জমা দিয়ে উপবৃত্তির আওতায় আসতে পারবে।

মন্তব্য করুন