বিলুপ্তির পথে ম্রো ভাষা ও বর্ণমালা বাঁচিয়ে রাখতে ম্রো ভাষা ও বর্ণমালায় রচিত পাঁচটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে বান্দরবানের ম্রোচেট অফিসের সম্মেলন কক্ষে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। ম্র্রোদের বর্ণমালা ও ক্রামা ধর্মের প্রবক্তা ক্রামাদি মেনলে ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং ম্রো লেখক ইয়াংঙান ম্র্রো রচিত বইগুলোর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে রেংমিটচ্য ভাষা রক্ষার দাবিও তোলা হয়।

ম্রো লেখক মেনরন ম্রোর সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ক্যচমং মারমা, ম্রো লেখক ইয়াংঙান ম্রো, বুদ্ধজ্যোতি চাকমা প্রমুখ।

ম্রো মাতৃভাষা রক্ষা কমিটির আয়োজনে উন্মোচিত পাঁচটি বইয়ের তিনটি হলো ক্রামাদি মেনলের। এগুলো হলো- হইলাই (বাংলায় তর্জমা করলে উপদেশমূলক), অরি খতি (নিয়মনীতি) ও রাঅং সাংচিয়া (রাসং নামে এক ব্যক্তির গল্প)। ইয়াংঙান ম্রোর দুটি বই ম্রোচ্য সাংচিয়া (ম্র্রো রূপকথা) ও রোয়াসাং (প্রাথমিক গণিত)। প্রাতিষ্ঠানিক ও পারিবারিকভাবে চর্চার অভাবে দিনে দিনে হারাতে বসেছে ম্রো ভাষার বর্ণমালা। ব্যক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে বাঁচিয়ে রাখতে চেষ্টা চালানো হয়েছে। যেসব ব্যক্তি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ক্রামাদি মেনলে। তিনিই প্রথম ম্রো ভাষার বর্ণমালা রচনা করেন। এরপর ম্রোদের ক্রামা ধর্ম প্রবর্তন করেন। ম্রো ভাষায় তিনি অনেকগুলো বই রচনা করে  গেছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ইয়াংঙান ম্রো নিজ উদ্যোগে ম্র্রো ভাষা ও বর্ণমালা রক্ষার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে রেংমিটচ্য ভাষায় কথা বলতে পারা ম্র্রো ও সিংরা ম্রো নামে দুই ব্যক্তিও উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, বর্তমানে এই রেংমিটচ্য ভাষা বেঁচে আছে শুধু ১০ জনের মুখে মুখে। তারা মারা গেলে এই ভাষাও পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন