দিগন্তজোড়া সবুজ ফসলের মাঝে হলুদের হাসিতে আকৃষ্ট হচ্ছে সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন আশপাশের এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজকে ক্যামেরাবন্দি করতে ছুটে যাচ্ছেন সূর্যমুখী হলুদ ছড়ানো জমিতে। কুমিল্লার তিতাস উপজেলার বাতাকান্দি কেশবপুর গ্রাম সংলগ্ন সবুজ ফসলি মাঠের সূর্যমুখী জমিনে এভাবেই ছুটে আসছেন ছবি তুলতে ও দেখতে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ।

কয়েকজন সূর্যমুখী লাগানো জমিতে তাদের মোবাইল ফোনে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ সময় কথা বলতে গিয়ে উপজেলার কলাকান্দি গ্রামের মহিউদ্দিন শিকদার জানান, ফেসবুকে ছবি দেখে তিন বন্ধু মিলে ছবি তুলতে এসেছি। সত্যি অপরূপ দৃশ্য। কেউ না দেখলে বিশ্বাস করার মতো না। সূর্যমুখী ফসল আমাদের এলাকায় তেমন হয় না। এবার এখানে চাষ হওয়ায় এবং ফুল ফুটে ওঠায় দেখতে ও ছবি তুলতে এসেছি। একই কথা বলেন, রাজাপুর গ্রামের সনাতন ধর্মের এসআর সঞ্চয় দাস।

সূর্যমুখী চাষের কৃষক কেশবপুর গ্রামের নয়ন হোসেন বলেন, এবার প্রথম আমি এক একক জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছি। বীজ, সার ও কীটনাশক উপজেলা কৃষি অফিস থেকে দিয়েছে। এখন পর্যন্ত আমার প্রায় ২৫ হাজার ব্যয় হয়েছে। তিনি বলেন, সূর্যমুখী চাষ করে এবার যে আনন্দ পাচ্ছি সেটা হচ্ছে, অনেকে আমার জমিতে এসে ছবি তুলছেন।

বাতাকান্দি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার বলেন, এবার আমার ব্লকে জগতপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, নয়ন হোসেন, খলিলুর রহমানসহ পাঁচ কৃষক তিন একর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছেন। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউশন থেকে সরবরাহকৃত বারি-৩ জাতের ফসল চাষ করা হয়েছে। মার্চ মাসের মাঝামাঝি ফলনের আশা করা যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিন জানান, লোকজন কেশবপুর এলাকায় সে জমিতে ভিড় করছে এটি বিএআরআই গাজীপুর গবেষণা কেন্দ্রের অর্থায়নে কুমিল্লা গবেষণা বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে একটি প্রদর্শনী প্লট। এটি মূলত বারি উদ্ভাবিত সূর্যমুখী বিস্তার ও জনপ্রিয়তার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন