পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একাধিক মামলার আসামি শহিদুল ইসলাম রানাকে দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে রানা। ফলে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। রানা উপজেলার উত্তর মিঠাখালী (মাঝেরপুল) গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্য খলিলুর রহমানের ছেলে।

থানা পুলিশ জানায়, পার্শ্ববর্তী বামনা উপজেলার হলতা ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির দুই কলেজছাত্রী ভর্তি শেষে গত বছরের ১৩ আগস্ট দুপুরে সড়কপথে সহপাঠীদের নিয়ে ভাণ্ডারিয়ায় ইকোপার্কে বেড়াতে রওনা হন। মঠবাড়িয়া-পিরোজপুর সড়কে ইজিবাইকে যাওয়ার সময় তাদের গাড়ি খোসালের বাড়ি নামক স্থানে বিকল হয়। এমন সময় দুই কলেজছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রানা ও তার তিন সহযোগী মিলে নিকটবর্তী আর্শ্বেদ মিয়ার বাড়ির সামনে সরকারি পুকুর পাড়ে নিয়ে যায়। এরপর চারজনে মিলে ধর্ষণ করে। এরপর রানা দুই ছাত্রীর অভিভাবকের কাছে চাঁদা দাবি করে। এ ব্যাপারে এক কলেজছাত্রীর নানা বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করলে পুলিশ সাগর নামে একজনকে গ্রেপ্তার করলেও ঘটনার নায়ক রানাসহ বাকি তিনজন পলাতক থাকে।

২০০৯ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর শহিদুল ও রানা প্রতিবেশী ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক সাইদুর রহমানের ছেলে মাসুম গাজীকে (২০) মোটরসাইকেলসহ ভাড়া নেয়। পরের দিন ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে বামনা উপজেলার সিংরাবুনিয়া গ্রামের হলতা নদীর বেড়িবাঁধের ওপর মাসুমের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়। রানা ও তার দল পরিকল্পিতভাবে মাসুমকে হত্যা করে তার ব্যবহূত বাজাজ সিটি-১০০ মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেয়। এ ব্যাপারে নিহতের চাচা আবুল কালাম গাজী বাদী হয়ে বামনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ জানায়, রানার বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানায় একটি ও শ্বশুরবাড়ি যশোরের কোতোয়ালি থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, রানা একজন মাদকসেবী ও পেশাদার সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে কেউ মূখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মাসুদ্দুজ্জামান মিলু জানান, ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত রানাসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। রানাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করেছে। তার দাবি, আসামি রানাকে গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন