আশুলিয়ায় গার্মেন্টসের ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। যুবলীগ নেতা কবির সরকারের ম্যানেজার সেলিম আহম্মেদ বাদী হয়ে ১০ জনকে আসামি করে এ মামলাটি করেন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দু'জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হচ্ছে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আবু সাদেক ভুইয়ার ছেলে মনির হোসেন ও তার সহযোগী দেলোয়ার হোসেন। মঙ্গলবার সকালে আশুলিয়ার ভাদাইল এলাকায় দুই গ্রুপের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়।

ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ডিইপিজেড) অবস্থিত এক্সপেরিয়েন্স পোশাক কারখানার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে দীর্ঘ দিন ঝুট ব্যবসা করে আসছিলেন আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবির হোসেন সরকার। ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এ সুযোগে ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি আবু সাদেক ভুইয়ার ছেলে মনির হোসেন ওই কারখানার এক কর্মকর্তার সঙ্গে ঝুট ক্রয়ের চুক্তি করেন। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পরপরই মনির ওই কারখানায় ঝুটের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিলেন। মঙ্গলবার মনির হোসেন তার লোকজন নিয়ে ওই কারখানায় ঝুট বের করতে গেলে সেখানে থাকা কবির হোসেনের লোকজন বাধা দেয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এর পর মনির তার লোকজন নিয়ে ভাদাইল এলাকায় তার বাড়িতে চলে আসেন।

এদিকে কারখানা থেকে প্রতিপক্ষ গ্রুপের ঝুট বের করে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে কবির সরকারের লোকজন ২০/২৫টি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে তাদের না পেয়ে আধিপত্য বিস্তার করতে মোটর সাইকেলের বহরটি ভাদাইল পবনার টেক এলাকায় পৌঁছলে মনির হোসেনের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেল বহরে হামলা চালায়। এ সময় উভয় পক্ষে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১৫/১৬ জন আহত হয়।

মন্তব্য করুন