লঞ্চ দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ছেলে ইফাজ জানায়, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে রওনা দিয়েছিল লঞ্চটি। তখন একজন ব্যক্তি প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। ধীরে ধীরে গতি কমিয়ে চালাচ্ছিল। যখন বড় জাহাজটি লঞ্চের কাছাকাছি আসে তখন সব যাত্রী চিৎকার করে জাহাজকে থামানোর জন্য বলছিলেন। তারা না থামিয়ে ওপর দিয়ে চলে যায়। তখনও আমি আম্মুর হাত আর আম্মু আমার হাত শক্ত করে ধরেছিলেন। এরপর লঞ্চটি আমাদের সবার ওপরে পড়ে যায়। তখন পানিতে ডুবে যাই। আশপাশের সবাইকে বলেছি আমার আম্মুকে খুঁজে দেওয়ার জন্য। লঞ্চ দুর্ঘটনায় ছেলে ইফাজ বাঁচলেও প্রাণ হারিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন মা দোলা বেগম। ছেলের স্কুল থেকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) নিতে ঢাকা এসেছিলেন দোলা বেগম। লকডাউনের কারণে ঢাকার বাসা ছেড়ে মুন্সীগঞ্জ শহরে বাবার বাড়িতে আসছিলেন তিনি। তাকে হারিয়ে নীরবে কাঁদছেন স্বজনরা। 

১৫ বছরের ছেলে ইফাজকে সঙ্গে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ঘাটে এসে লঞ্চে ওঠেন মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশ্যে। পথে শীতলক্ষ্যা নদীতে জাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায় সাবিদ আল হাসান নামের লঞ্চটি। ছেলেকে বাঁচাতে হাত ধরে ছিলেন বেশ কিছুক্ষণ। শেষ রক্ষা আর হয়নি। সাঁতার জানলেও কিছুদূর যাওয়ার পর ইফাজকে নির্মাণাধীন ব্রিজের শ্রমিকরা উদ্ধার করে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর দোলার মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা। দোলা বেগম শহরের দক্ষিণ কোটগাঁও এলাকার দুলু মিয়ার মেয়ে। সোমবার সকালে দক্ষিণ কোটগাও এলাকায় তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

মন্তব্য করুন