দেওয়ানগঞ্জ রেল কলোনির ব্রিটিশ আমলে নির্মিত পরিত্যক্ত দুই ইউনিটের পরিত্যক্ত ঘরে কয়েক যুগ ধরে বসবাস করে আসছে অবাঙালি ১২০টি পরিবার। তাদের বসবাস করা পরিত্যক্ত ঘরগুলো জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। দেয়ালে ফাটল ধরেছে অনেক আগেই। ছাদ ভাঙাচোরা, বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। বাথরুম, টয়লেট ভাঙাচোরা ও অস্বাস্থ্যকর। ঘরগুলোতে বসবাসকারী অবাঙালি বিহারিরা ভূমিহীন। ঘর তোলার মতো কোনো জায়গা নেই তাদের। বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেলের পরিত্যক্ত ঘরেই বসবাস করছেন তারা।

১৯৪৭-এ ভারত-পাকিস্তান বিভক্তির সময় ভারতের বিহার রাজ্যের কয়েক হাজার মুসলিম পরিবার তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে এসে বসবাস শুরু করেন। তাদের পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে কয়েকশ অবাঙালি মুসলিম পরিবার দেওয়ানগঞ্জ রেল কলোনিতে বসবাস করে আসছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের বাংলাদেশি নাগরিক করা হলেও সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা তাদের নাগরিক সুবিধা প্রদানে উদাসীন। সরকারি কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছেন না। ১২০ ঘর অবাঙালির মধ্যে ২১ জন বিধবা রয়েছেন। তারা কেউ বিধবাভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের মধ্যে শিক্ষিত বেকার থাকা সত্ত্বেও চাকরি মিলছে না। কর্মহীন বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে অভাব-অনটনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।

১২০ ঘর অবাঙালি বিহারির মধ্যে ৯ জন বয়স্ক, ২১ জন বিধবা ও কয়েকজন স্বামী পরিত্যক্ত নারী রয়েছেন। তাদের বেশির ভাগেরই সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ নেই। তাই তারা অন্যের অনুগ্রহে জীবন চালাচ্ছেন। তাদের মধ্যে জুলেখা বেগমের (৮২) অবস্থা বেশি শোচনীয়। স্বামী নেই, ছেলেমেয়ে নেই। নিজেও চলাফেরা করতে পারেন না। বিহারি কলোনির লোকজন মানুষের কাছে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে তার ভরপোষণ করে আসছেন।

অবাঙালি বিহারি কলোনির সাবেক চেয়ারম্যান শফি আলম বলেন, তারা অর্থাভাবে, অভাব-অনটনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ভিটেমাটি নেই। রেলের জমিতে ব্রিটিশদের নির্মিত পরিত্যক্ত দুই ইউনিটের ঘরে স্বামী-স্ত্রী, ছেলেমেয়ে নিয়ে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ খান বলেন, দেওয়ানগঞ্জ রেল কলোনির ৩৩টি পরিত্যক্ত ঘরসহ ৫টি টিনের ঝুপড়িতে ১২০ অবাঙালি বিহারি পরিবার কয়েক যুগ ধরে বাস করে আসছে। তাদের কেউ পানের দোকান, কেউ হকারি, কেউ স্যালুন, কেউ ফেরিসহ বিভিন্ন ছোটখাটো ব্যবসা করে কোনো মতে জীবিকা নির্বাহ করছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তাদের মাথাপিছু ৩ কেজি ২৫০ গ্রাম চাল রেশন হিসেবে দেওয়া হতো। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দিয়েছে। ১২০ ঘরের মধ্যে ৩৮৩ জন ভোটার। তাদের বেশির ভাগই কর্মহীন বেকার। তারা বউ, ছেলেমেয়ে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে।

মন্তব্য করুন