পদ্মা ও মেঘনা নদীতে মাছ ধরার নিষিদ্ধ সময়ে বেকার জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি হতদরিদ্র জেলেদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে। এরই অংশ হিসেবে চাঁদপুরে ২০ জেলেকে রিকশাভ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেয় জেলা মৎস্য অফিস।

ভ্যান বিতরণ অনুষ্ঠানে এসে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক জানতে পারলেন, জেলে হিসেবে যাদের ভ্যান দেওয়া হচ্ছে, তাদের বেশিরভাগই জেলে নন। পরে তিনি এগুলো বিতরণ না করে তা স্থগিত ঘোষণা করেন। বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে রিকশাভ্যান এবং জেলেদের সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়। রিকশাভ্যান বিতরণ স্থগিত করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ।

যাদের জন্য ভ্যান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাদের কয়েকজন স্বীকারও করেন তারা প্রকৃত জেলে নন। তাদের একজন মিজান হাওলাদার। চাঁদপুর সদরের ইচুলি গ্রামে তার বাড়ি। পেশায় মাটিকাটা শ্রমিক। আরেকজন একই উপজেলার তরপুরচণ্ডী এলাকার কৃষক আলী খান ও কয়লাঘাটের বিল্লাল হোসেন। এ তিনজন স্বীকার করেন, তারা কেউ জাটকা জেলে অর্থাৎ পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকার করেন না। তবে কীভাবে জেলে তালিকায় নাম এসেছে, এসব নিয়ে মুখ কোনো কথা বলতে চাননি।

চাঁদপুর জেলা মৎস্যজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তসলিম বেপারী অনিয়ম স্বীকার করে জনপ্রতিনিধিদের দোষারোপ করেছেন। তিনি বলেন, বুধবার যে ২০ জেলেকে এখানে রিকশাভ্যান বিতরণের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে, তার মধ্যে দু'জন প্রকৃত জেলে।

এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী বলেন, যাদের ভ্যান দেওয়ার কথা ছিল, তারা সবাই নিবন্ধিত জেলে। এ তালিকা করেছে কারা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন জনপ্রতিনিধিরা। ২০১৬ সালে তারা নিবন্ধিত হয় বলে তিনি জানান। তালিকায় অপেশাদার জেলেও থাকতে পারেন বলে তিনিও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা তো তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখিনি যে, তারা নদীতে মাছ ধরেন কিনা? তবে এখন যেহেতু বিষয়টি ধরা পড়েছে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। তিনি জানান, জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রতিটি ভ্যান তৈরিতে সরকারি বরাদ্দ মিলেছে ২৫ হাজার টাকা। চাঁদপুরে ২০ জনকে ভ্যান দেওয়া হচ্ছে।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজীদা শাহনাজকে প্রধান এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান মাহমুদ ডালিম ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. জামালউদ্দিনকে নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এদিকে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, বিতরণ করতে গিয়ে আমি যখন জেনেছি এখানে অনিয়ম হয়েছে, জেলে নেই; তাৎক্ষণিক বিতরণ স্থগিত ঘোষণা করে দিয়েছি।

মন্তব্য করুন