পার্বত্য চট্টগ্রামের (রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) ১১ ভাষাভাষী পাহাড়ি জাতিসত্তার ঐতিহ্যবাহী প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসুক, বিষু, বিহু। তিন দিনব্যাপী এ উৎসব গতকাল সোমবার শুরু হলেও করোনার কারণে তা ম্লান হয়েছে। উৎসবের যাবতীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। বাংলা বছরের শেষ দু'দিন ও নতুন বছরের প্রথম দিন এ উৎসব পালন করে আসছে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের মানুষ।

উৎসবটি উচ্চারণগতভাবে বিভিন্ন নামে পালন করা হলেও এর নিবেদন একই। মূলত পুরোনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ও গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরের নব উদ্যোগের শুভ কামনা করাই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।

গতকাল ভোরে পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আজ উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল বিজু। এদিনে ঘরে ঘরে শুধু চলে খাওয়ার পর্ব ও আনন্দ-ফুর্তি। পাজন তরকারিসহ বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার অতিথিদের পরিবেশন করা হয়। করোনার কারণে এ বছরও তিন দিনব্যাপী এসব অনুষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করতে পারছে না পাহাড়িরা।

পার্বত্য চট্টগ্রাম আদিবাসী ফোরামের পার্বত্যাঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা জানান, শোভাযাত্রা, নদীতে ফুল ভাসানো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সব অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

খাগড়াছড়িতে 'বৈসাবি' শুরু :পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাহাড়িদের প্রধানতম সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব 'বৈসাবি' গতকাল খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে। চেঙ্গী নদীসহ বিভিন্ন প্রবাহমান ছড়া-খালে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে চাকমাদের ফুল বিজু উদযাপন হয়। এবার ফুল বিজুর প্রধানতম প্রার্থনা ছিল করোনা থেকে মুক্তি লাভ করা। এ ছাড়া নতুন বছরে ভালো কিছু প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন পাহাড়িরা। করোনার কারণে এবার বৈসাবি উৎসবের কোনো আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও চাকমারা ফুল বিজু পালন করেছে যথারীতি। তবে অন্যান্য বছরের মতো এবার পাহাড়ের পাড়া-পল্লিতে উৎসবের আমেজ নেই।

মন্তব্য করুন