বিদ্যালয়ের জন্য কাঠের কোনো নতুন দরজা তৈরি করা হয়নি। সুসজ্জিত করা হয়নি শ্রেণিকক্ষও। স্কাউট ড্রেস কিংবা খুদে ডাক্তার ড্রেসের অস্তিত্বও নেই। অথচ এসব জিনিসপত্রের ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে শ্রীপুরের মাওনা উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয় মেরামত কিংবা উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ পাওয়া টাকায় কোনো কাজ না করে সব টাকা তিনি একাই আত্মসাৎ করেন- এমন অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছিলেন এলাকাবাসী।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামীমা আক্তারের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্তে মাঠে নামে শিক্ষা অফিস। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ হাজার ২০০ টাকা ভাউচারে ১০ সেট স্কাউট ড্রেস ও ৬ সেট খুদে ডাক্তার ড্রেস উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে এগুলো বিদ্যালয়ে পাওয়া যায়নি। একটি কাঠের দরজা বাবদ ১২ হাজার টাকা ভাউচার করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, অথচ নতুন কোনো কাঠের দরজাই তৈরি করা হয়নি। এ ছাড়া শ্রেণিকক্ষ সুসজ্জিত করার জন্য ১০ হাজার টাকা খরচ করলেও ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। স্কুলে কোনো বৈদ্যুতিক পাখা নেই।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ে আরও দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক টাকারও কাজ না করে টাকা তোলার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দৌড়ঝাঁপ করছেন বলে অভিযোগ। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুন নাহার বলেন, স্কুল পরিদর্শন করে নতুন কোনো কাজের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দাবি করেন, তিনি কাজ করেছেন। কোনো টাকা আত্মসাৎ করেননি। কাঠের দরজার পরিবর্তে স্টিলের দরজা তৈরি করেছেন।

মন্তব্য করুন