নেত্রকোনার মদনে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নামে পুরাতন রাস্তা মেরামত করে বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নায়েকপুর ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে। রাস্তা সংস্কার করায় গত সোমবার ভেকুর চাবি নিয়ে কাজ বন্ধ দিয়েছে এলাকাবাসী। এ প্রকল্পের জন্য ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জালিয়ার হাওরে বর্ণি নদীর পাশ ঘেঁষে নির্ধারিত ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ না করে প্রকল্পের স্থান পরিবর্তন করে তালুককানাই, পাঁচআলমশ্রী গ্রামের পুরাতন রাস্তার সংস্কার কাজ শুরু করা হয়। এটি বাতিল করে প্রকল্পের নির্ধারিত বাঁধে মাটি কাটার দাবিতে আলমশ্রী গ্রামবাসী পাকা সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এ সময় বক্তারা বলেন, শতশত কৃষকের ফসল রক্ষার চিন্তা না করে নিজেদের স্বার্থে মনগড়া প্রকল্প তৈরি করে কাবিটা প্রকল্পের রাস্তায় প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে মাটি কাটা শুরু করেন নায়েকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রুমান। এটি সাধারণ কৃষকের কোনো কাজে আসবে না। মূলত প্রকল্পের টাকা লুটপাট করাই তাদের উদ্দেশ্য। আমরা বর্ণি নদীর পাড়ে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে জোর দাবি জানাচ্ছি। এ সময় বক্তব্য দেন সাবেক ইউপি সদস্য বেবুল ভূঁইয়া, তৌফিক উদ্দিন ভূঁইয়া, বজলুর রহমান, আব্দুর রশিদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান তালুকদার হিরা, আল্লাদ ভূঁইয়া, মহর উদ্দিন প্রমুখ।

এ ব্যাপারে প্রকল্পের সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের কাছ থেকে জেনে নেন। চেয়ারম্যান বলতে পারবেন।

নায়েকপুর ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রুমান জানান, প্রকল্প এলাকায় মাটি কাটতে গেলে কেন্দুয়ার অংশের লোকজন বাধা দেয়। তাই নায়েকপুর ইউনিয়নের জালিয়ার হাওরের আরেকটি অংশে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে এলাকার কিছু লোকজন ভেকুর চাবি নিয়ে যাওয়ায় মাটি কাটা বন্ধ রয়েছে। আমি এ নিয়ে ইউএনওকে জানিয়েছি। এ রাস্তায় কাবিটা প্রকল্পের কাজ হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে যান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নেত্রকোনার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানূর রহমান জানান, জালিয়ার হাওর (নায়েকপুর অংশ) ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে বর্ণি নদী ঘেঁষে প্রথমে কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এলাকার লোকজনের বাধার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। পরে ইউএনওর পরামর্শে সেখানে কাজ শুরু করেছি। এলাকাবাসী যদি মানববন্ধন করে, তাহলে লোকজন পাঠিয়ে দেখছি।

এ ব্যাপারে ইউএনও বুলবুল আহমেদ জানান, ফসল রক্ষা বাঁধ এলাকাটি কেন্দুয়া উপজেলার মৌজায় হওয়ায় সেখানকার কৃষকরা মাটি কাটতে বাধা দেন। পরে নায়েকপুরের কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করেই স্থান পরিবর্তন করে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে কৃষকদের উপকারে না এলে মাটি কাটা বন্ধ করে দেব। শুনেছি এলাকার লোকজন ভেকুর চাবি নিয়ে গেছে। ওসিকে নিয়ে মঙ্গলবার বিকেলে প্রকল্প এলাকায় যাব এবং কৃষকদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করব। তাদের সুবিধার্থে কাজ হবে। কাজ না হলে টাকা ফেরত যাবে।

মন্তব্য করুন