কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে রিফাত মিয়া নামের পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে উপজেলার চরতালজাঙ্গা গ্রামে একটি পাটক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। সে চরতালজাঙ্গা গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে এবং চরতালজাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল।

পুলিশ ও আত্মীয়স্বজনরা জানান, রিফাত শুক্রবার রাতে গ্রামের মসজিদে তারাবির নামাজ পড়তে যায়। নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরে রাতের খাবারও খায় সে। কিন্তু এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। শনিবার সকালে বাড়ির পাশে একটি পাটক্ষেতে তার গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

শিশুটির বাবা দুলাল মিয়া বলেন, আমাদের কোনো শত্রু নেই। যারা আমার ছেলেকে নৃশংসভাবে খুন করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

নিহতের মা নাজমা আক্তার এ খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার ইঙ্গিত করেন দুলালের দ্বিতীয় স্ত্রী শিরিন আক্তার শরিফার দিকে। তিনি অভিযোগ করেন, ঘরের মানুষ ছাড়া এ ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়। রাতে ছেলে ঘরে না আসায় শরিফার কাছে ছেলের খবর জানতে চাইলে শরিফা বলে, রিফাত নতুন জামাকাপড় পরে বাইরে গেছে। তবে লাশ পাওয়ার পর দেখা গেছে রিফাতের গায়ে পুরান জামা-প্যান্ট। শরিফা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'আমি খুনের বিষয়ে কিছু জানি না'।

পুলিশ জানায়, শিশুটির বাবা দুলাল মিয়ার দুই স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। প্রথম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া কয়েক মাস আগে শিরিন আক্তার শরিফা নামের এক নারীকে বিয়ে করেন দুলাল। বিয়ের পর প্রথম স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে গেলে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে থাকত রিফাতসহ তার অপর দুই ভাই। রিফাতের মা নাজমার বাবার বাড়ি শেরপুরে। চরতালজাঙ্গা গ্রামে তার এক বোনের বাড়ি। সপ্তাহখানেক আগে তিনি বোনের বাড়িতে আসেন।

মন্তব্য করুন