করোনা সংক্রমণের পাশাপাশি ঝালকাঠিতে ডায়রিয়ার প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এপ্রিলের শুরুতেই ডায়রিয়ার রোগী বাড়তে থাকে। মাত্র ২৬টি শয্যার ডায়রিয়া ওয়ার্ড পরিপূর্ণ হয়ে হাসপাতালের মেঝেতেও ঠাঁই পাচ্ছে না রোগীরা।

গতকাল শনিবার গিয়ে দেখা যায়, ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে শয্যার চেয়ে রোগী অনেক বেশি। ওয়ার্ডে কর্মরত সেবিকা কিশোরী মণ্ডল জানান, শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত ৭৮ জন ভর্তি হয়েছেন। রোগীদের সেবা দিতে চিকিৎসক ও নার্সরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। শয্যা অপ্রতুল থাকায় অধিকাংশ রোগী বাড়ান্দার মেঝেতে রাখা হয়েছে।

ডায়রিয়া ওয়ার্ড সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সদর হাসপাতালে প্রায় ৪৮০ রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। খাবার স্যালাইন পর্যাপ্ত থাকলেও সরবরাহ না থাকায় একজন রোগীর জন্য দুটির বেশি স্যালাইন দেওয়া যাচ্ছে না। স্টোরে চাইলে প্রয়োজনীয় স্যালাইন পাওয়া যাচ্ছে না।

হাসপাতালের স্টোরকিপার দেলোয়ার হোসেন জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণ স্যালাইন রয়েছে, চাইলেই পাওয়া যাবে।

ঝালকাঠির কৃষ্ণকাঠি এলাকার ভর্তি হওয়া ডায়রিয়া রোগী জেসমিন বেগম জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখান থেকে পর্যাপ্ত স্যালাইন না পাওয়ায় বাইরে থেকে ৫০০-৬০০ টাকার স্যালাইন ও ট্যাবলেট কিনতে হয়েছে।

ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বিছানা না পাওয়ায় হাসপাতালের বারান্দায় থাকতে হচ্ছে।

ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু তিশা (৪)। তার মায়ের কোলে বাড়ান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। শিশুটির মা জানান, শনিবার ভর্তি করে বাইরে থেকে প্রায় ৪০০ টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে এসব ওষুধ দেয়নি।

বাসণ্ডা ইউনিয়নের বাড়ৈগাতি গ্রামের ডায়রিয়া আক্রান্ত আরেক রোগী শহীদুল ইসলাম জানান, গত শুক্রবার রাতে হাসপাতালে এসেছি। এখান থেকে দুটি কলেরা স্যালাইন দিলেও বাইরে থেকে আরও ৩টি স্যালাইন ও ইনজেকশন কিনতে হয়েছে।

হঠাৎ করে ডায়রিয়া বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে হাসপাতালের আরএমও জাফর আলী দেওয়ান বলেন, গরমের এই সময়ে খাবার থেকে ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করায় হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তরমুজ পাকাতে কেমিক্যাল ব্যবহার করে বাজারে বিক্রি করছেন। এই তরমুজ খেয়ে অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে আকস্মিক ডায়রিয়া বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যাপ্ত শয্যা দেওয়া যাচ্ছে না। দু-একটি ওষুধের সরবরাহ নেই। পর্যাপ্ত খাবার ও কলেরা স্যালাইনের সরবরাহ আছে।

ঝালকাঠি সিভিল সার্জন ডাক্তার রতন কুমার ঢালি জানান, হঠাৎ করে ডায়রিয়া রোগী বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে বেড দেওয়া যাচ্ছে না। তবে রোগীর চাপ সামলাতে শিগগির হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বাসভবনটিকে ডায়রিয়া রোগীর জন্য তৈরি করা হচ্ছে। কলেরা স্যালাইন পর্যাপ্ত আছে।

মন্তব্য করুন