স্টিম টারবাইনে পানি সরবরাহের অভাবে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এপিএসসিএল) দুটি বৃহৎ ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

ইউনিট দুটি হলো ৪৫০ মেগাওয়াটের (নর্থ ও সাউথ) কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট। শনিবার ভোরে মেঘনা নদীতে থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি সরবরাহ পাইপে ময়লা ঢুকে পাম্প বন্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ইউনিট দুটি চালু ও স্বল্প পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে সক্ষম হলেও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্নিষ্টরা।

এপিএসসিএল সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রে (সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে) আট ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষম। ইউনিটগুলো হলো ১৫০ মেগওয়াটের ইউনিট-৩, ৪, ৫; ৫৩ মেগাওয়াটের জিটি ইউনিট, ২২৫ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল প্লান্ট, ২০০ মেগাওয়াটের মডিউলার প্লান্ট, এবং ৪৫০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল প্লান্ট (নর্থ ও সাউথ)। এসব ইউনিটের যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে এবং কম্বাইন্ড সাইকেল ইউনিটের স্টিম টারবাইন চালু রাখতে বিশেষ শক্তির পাম্পের মাধ্যমে মেঘনা নদী থেকে পানি সরবরাহ করা হয়। শনিবার সেহরির সময় এ পানি সরবরাহ পাইপে ময়লা-আবর্জনা ঢুকে পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। ফলে কেন্দ্রের সাড়ে ৪০০ মেওয়াওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন (নর্থ ও সাউথ) কম্বাইন্ড সাইকেল প্লান্ট দুটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। শুস্ক মৌসুমে নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এবং নদীতে ব্যাপক পরিমাণে পলিথিনসহ অন্যান্য বর্জ্য থাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ অবস্থায় বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ইউনিট দুটির গ্যাস টারবাইন চালু করে।

এদিকে নিজস্ব প্রকৌশলীরা মেরামত কাজ শুরু করেছেন। গতকাল রাতের মধ্যেই ইউনিট দুটি উৎপাদনে ফিরবে।

এ ব্যাপারে বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী (এমইউ) মো. শাহ আলম খান বলেন, নদীতে প্রচুর পলিথিনসহ ময়লা থাকায় তা পানির সঙ্গে ঢুকে পড়ে। এতে পাম্প বন্ধ হয়ে যায়। পাম্প চালু করার চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার ভিত্তিতে অধিক দক্ষতাসম্পন্ন ইউনিট চালু রয়েছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যুৎকেন্দ্রের এমডি প্রকৌশলী এএমএম সাজ্জাদুর রহমান বলেন, দুটি ইউনিটের গ্যাস টারবাইন চালু রয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে ইউনিট দুটি থেকে গড়ে সাড়ে ৩০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও বর্তমানে প্রতিটি থেকে গড়ে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

দ্রুত ইউনিট দুটি স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন সাজ্জাদুর রহমান।

মন্তব্য করুন