ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক গৃহবধূ ও এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিজ ঘর থেকে গৃহবধূ এবং নদীর পাড়ে একটি গাছ থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সকালে লাশ উদ্ধারের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের উজানচর নওপাড়া গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে আসাদুল ইসলাম (২৫) মাদকাসক্ত ছিল। আসাদ মাদকের টাকার জন্য বাবা-মা ও পরিবারের লোকজনকে অত্যাচার করত। অতিরিক্ত মাদক সেবন করে অস্বাভাবিক চলাফেরা করত আসাদ। রাতে প্রায়ই বাড়িতে ফিরত না। গত সোমবার রাতে বাড়িতে না ফেরায় মঙ্গলবার সকালে খোঁজ শুরু হয়। বাড়ির অদূরে কাঁচামাটিয়া নদীর কাছে ঝড়ে পড়া একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় আসাদকে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।

অন্যদিকে উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নের বৃপাচাশী গ্রাম থেকে মঙ্গলবার সকালে নিজ ঘরের আড়া থেকে গৃহবধূ বিলকিস আক্তারের (৩৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বিলকিস পাড়াপাঁচাশি গ্রামের সফর উদ্দিনের ছেলে সোহাগ মিয়ার স্ত্রী। মৃত্যুর বিষয়ে বিলকিসের পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকলেও মৃত্যুকে ঘিরে পুলিশের সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় লাশ মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, সুরতহালে হত্যার দৃশ্যত আলামত না পাওয়া গেলেও সন্দেহ থাকায় লাশ দুটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাদক সেবন নিয়ে বিরোধে যুবক ও পারিবারিক বিরোধে গৃহবধূ হত্যার শিকার হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা স্থানীয়দের। যুবকের বাবা ও গৃহবধূর ভাই অপমৃত্যু মামলা করেছেন।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল কাদির মিয়া বলেন, অতিরিক্ত নেশার কারণে যুবক মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না। গৃহবধূর মৃত্যু নিয়েও রহস্য রয়েছে। দুটি মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা যাবে।

মন্তব্য করুন