লকডাউনের সপ্তম দিন অতিবাহিত হলেও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় চিঠিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে কর্মকর্তাদের মনিটরিং দায়িত্ব।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত ফুলবাড়িয়া উপজেলার আনুহাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রণজিত মৈত্র চিকিৎসকের পরামর্শের কোনো তোয়াক্কা না করে নিজ ঘরে অবস্থান করছেন না। ঘুরছেন স্থানীয় কেশরগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন অলিগলিতে। এতে করে জনগণের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আগের দিন সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে তিনি বাসায় ছিলেন না বলে জানান তার স্ত্রী। তার পরিচিতজন অনেকেই জানিয়েছেন তিনি হাট-বাজারে অবাধে ঘোরাফেরা করছেন।

নাওগাঁও ইউনিয়নের মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবীর বলেন, আমাদের অফিস বন্ধ তাই ময়মনসিংহের বাসায় আছি। মনিটরিংয়ের দায়িত্বের দায়িত্বের কোনো চিঠি পাইনি।

রণজিত মাস্টারের স্ত্রী শ্রাবণী চক্রবর্তী বলেন, তিনি মানসিক রোগী, তাকে বাড়িতে রাখার চেষ্টা করেও পারছি না। আজকেও তিনি বাইরে চলে গেছেন।

গত ১৩ এপ্রিল উপজেলা প্রশাসন করোনাভাইরাস প্রতিরোধে লকডাউন বাস্তবায়ন ও আক্রান্তদের আইসোলেশনসহ সরকারের নির্দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে দায়িত্ব দিয়ে একটি করে আহ্বায়ক টিম গঠন করে অফিস আদেশ জারি করা হয়। সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের কর্ম এলাকায় অবস্থান করার কথা থাকলেও ইউএনও এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছাড়া কোনো কর্মকর্তাকে তার নিজ কর্ম এলাকায় দেখা যায়নি বলে সাধারণ মানুষের অভিযোগ।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোস্তফা কামালকে করোনা ও লকডাউনের মনিটরিং টিমের আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সার্বিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বাসায় আছি। মাঠ পর্যায়ে কাজের ব্যাপারে চিঠি ইউএনও অফিস থেকে পাইনি।

ফুলবাড়িয়া ইউনিয়ন মনিটরিংয়ের দায়িত্বে উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান তালুকদারের ভাষ্যও একই- আমি তো মাঠ পর্যায়ে কাজের ব্যাপারে কোনো চিঠি পাইনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালের আরএমও হারুন আল মাকসুদ বলেন, গত ১৪ এপ্রিল ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ল্যাবের রিপোর্টে রণজিত মাস্টারের করোনা পজিটিভ আসে। তাকে বাড়িতে রাখার জন্য তাকে ও তার পরিবারকে পরামর্শ দিয়েছি। তারপরও যেহেতু তিনি হাটে-বাজারে আসা-যাওয়া করছেন, সেহেতু তার কাছ থেকে সবাই দূরে থাকবেন।

ইউএনও আশরাফুল সিদ্দিক বলেন, করোনায় আক্রান্ত রোগী হাটবাজারে বের হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মকর্তাদের মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, সকল অফিসে কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে, আমি বিষয়টা আবারও দেখছি।

মন্তব্য করুন