টানা ৩২ বছর ধরে নীলফামারীর জলঢাকার পাঠকদের মধ্যে সংবাদপত্র বিক্রি করে চলেছেন আশরাফ আলী (৬৩)। রংপুরের এই বাসিন্দা প্রতিদিন প্রায় ১০০ কি.মি. পথ পাড়ি দিয়ে সংবাদপত্র বিক্রি করতে আসেন জলঢাকায়। রোদ-বৃষ্টি-ঝড় কোনোকিছুই তাকে থামাতে পারেনি। করোনাকালীন লকডাউনের মধ্যেও তার এই নীরবচ্ছিন্ন সেবা পাচ্ছেন মানুষ।

রংপুর বিভাগীয় শহরের আরাজি গুলাল গুদাই গ্রামে জন্ম আশরাফ আলীর। বাবা আব্দুর রাজ্জাক ছিলেন দিনমজুর। তিন ভাই ও চার বোনের সংসারে বাবাকে নিদারুণ কষ্ট করতে দেখেছেন তিনি। বাবার মৃত্যুর পর এলোমেলো হয়ে যায় তাদের সংসার। বড় ছেলে হিসেবে দায়িত্ব পড়ে তার কাঁধে।

১৯৮৯ সালে শুরু করেন সংবাদপত্র বিক্রির কাজ। এলাকা হিসেবে বেছে নেন জলঢাকাকে। দীর্ঘ সংবাদপত্র বিক্রির জীবনে অনেক চড়াই-উতরাই পার করতে হয়েছে তাকে। প্রচণ্ড খরা, ঝড়-বৃষ্টির প্রতিকূল পরিবেশ উপেক্ষা করে পথে-প্রান্তরে পাঠকদের সংবাদপত্র পৌঁছে দেওয়াই যেন তার কাজ। হরতাল, আন্দোলনেও কখনও থামেননি তিনি।

খবরের কাগজ বিক্রি করে চার মেয়ে ও এক ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছেন আশরাফ। এরই মধ্যে তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ফারহানা নামে এক মেয়েকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করিয়েছেন। ছোট মেয়ে আমেনা এসএসসি পরীক্ষার্থী। ছেলে হাসানুর করোনাকালীন কলেজ বন্ধ থাকায় সংসারের দেখভাল করেন। আশরাফ জানান, ৩২ বছর ধরে জলঢাকার মানুষকে সংবাদপত্র সেবা দিয়ে আসছি। যৌবনকাল থেকে এ পেশার সঙ্গেই আছি। এতে অনেক সময় বিপত্তিতেও পড়তে হয়েছে।

তিনি জানান, বাস বন্ধ থাকলে তাকে বাইসাইকেলে ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। এতেও কোনো ক্লান্তি নেই। যখন খবরের কাগজটি গ্রাহকের হাতে তুলে দেন, তখন তার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, রংপুর থেকে জলঢাকায় আসার পথে দু'বার তাকে ডাকাতদের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। যতদিন বেঁচে থাকবেন জলঢাকার মানুষকে সংবাদপত্র সেবা দিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তার।

এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য ও জলঢাকা প্রেস ক্লাব সভাপতি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা বলেন, আশরাফকে দীর্ঘদিন ধরে দেখছি, সংবাদপত্র পাঠকদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিতে। জলঢাকার অলিগলিতে পাঠকদের সংবাদপত্র দেন তিনি। এটা অনেক ত্যাগ স্বীকারের ব্যাপার।

মন্তব্য করুন